রাজধানীর সবুজবাগে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেইসেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে সবুজবাগের বাগানবাড়ি এলাকার একটি কালভার্টের উত্তর পাশের নালার ময়লার স্তূপ থেকে একটি শপিং ব্যাগের ভেতরে নারীর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই পৃথক একটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মরদেহের ধড় ও দুই পায়ের এখনো সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ বলছে, নিহত নারীর আনুমানিক বয়স ২০ বছর। মাথার চুলে সোনালি রং করা ছিল এবং একটি ক্লিপ লাগানো ছিল। কানে ছিল সোনালি রঙের দুল। উদ্ধার হওয়া হাতে একটি ট্যাটুও দেখা গেছে।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মাথা দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি একজন নারীর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরদেহ খণ্ডিত করে গুমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও তা বিদ্যমান ডেটাবেইসের সঙ্গে মেলেনি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের সব তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) যাচাই করে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।