জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। পরে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ভবনের তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
গতকাল সোমবার এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটটির নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নতুন পরিচালক নিয়োগের পর থেকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এই নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে মোহাম্মদ কামরুল হামীমকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করতে দেখা যায় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৪টার দিকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এর পরিচালক হিসেবে তাঁদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে সিন্ডিকেট সভা চলছিল। সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য বের হয়ে দেখেন ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া।
পরে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অন্যদের বের করে আনেন।
তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটে যোগ্য শিক্ষক থাকার পরও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ নিয়োগ প্রত্যাহার করে তাঁদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে উপাচার্য তাঁদের দাবি না শুনে ছাত্রদল ডেকে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন।
এদিকে তালা ভাঙার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা তালা ভাঙিনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’
এ বিষয়ে জাবি উপাচার্য নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।’
উপাচার্য আরও বলেন, যাঁরা তালা দিয়েছেন এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন বা যাঁরা ইন্ধন দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।