পুলিশ সদস্যসহ যে কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান। সরকারি বা বেসরকারি কোনো পরিচয়ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত মে মাসে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সরকারি যানবাহনের ট্রাফিক আইন না মানা, অবৈধভাবে হুটার ব্যবহার ও অতিরিক্ত হর্ন বাজানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ট্রাফিক আইন মেনে চলেন। ফলে অন্যদের ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগে কোনো ব্যত্যয় হবে না।
মোসলেহ্ উদ্দিন আরও বলেন, ‘যেখানে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ, সেখানে হর্ন বাজানো যাবে না। জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন হুটার ব্যবহার করতে পারে না। ট্রাফিক আইন ও বিধিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’ তিনি জানান, ট্রাফিক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি অনেক যানবাহনের নিবন্ধন নম্বর না থাকা এবং ইঞ্জিন নম্বরের ভিত্তিতে চলাচলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, গত মে মাসে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এসব মামলায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
কমিশনার বলেন, ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইনসংশ্লিষ্ট ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এসব মামলায় একজনকে কারাদণ্ড এবং অন্যদের মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করে ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি সম্পর্কে মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত লেন অতিক্রম, লেন ব্লক করা কিংবা অন্যান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা দেওয়া হয়। এআই ক্যামেরা আরও বাড়ানো হবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেহেতু ব্যাটারিচালিত রিকশা মোটরযানের আওতায় পড়ে না, তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ নেই। তবে অভিযান চালিয়ে রিকশাগুলো ডাম্পিং করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যাতে কোনোভাবেই ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।