রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘লিফট’ দেওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ, নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।
আজ রোববার খিলক্ষেত থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শরীয়তপুরের সদর উপজেলার চর গাজীপুর এলাকার মো. সুবেদ রানা (৩১) ও বরগুনা সদর উপজেলার কালির তবক এলাকার মো. মিরন ওরফে সুজন (৫৪)। বর্তমানে সুবেদ মিরপুরের কাঠালতলা এবং মিরন মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় থাকতেন।
পুলিশের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২১ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজগামী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন একটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এ সময় কাঞ্চন ব্রিজে যাওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেটকারে তাঁকে ওঠানো হয়।
গাড়ি চলা শুরু করলে পেছনের আসনে আগে থেকে বসে থাকা দুজন তাঁর হাত বেঁধে ফেলেন। পরে তাঁর কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে মারধর করে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে অপহরণকারীদের নির্দেশে ভুক্তভোগী তাঁর কর্মস্থলের সহকর্মী মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে রবিউল ইসলাম পাঁচ লাখ টাকা এনে সুবেদ রানার হাতে তুলে দেন। মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর বেলা ১১টা ১৪ মিনিটের দিকে অপহরণকারীরা কামরুজ্জামানকে ৩০০ ফিট সড়কের নীলা মার্কেট গোলচত্বরের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর চিকিৎসা নিয়ে ভুক্তভোগী খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মিরপুর এলাকা থেকে সুবেদ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে মিরনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের মনিপুর এলাকা থেকে অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি এম তানভীর আহমেদ বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি ব্যস্ত সড়কে যাত্রী সেজে অপেক্ষমাণ মানুষকে লিফট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তোলে। এরপর তাঁদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।