কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দরাজখোলা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির দক্ষিণ পাশে ১৬ ফুট চওড়া খালের ওপর ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৭২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণকাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার থেকে ঠিকাদার হারুনুর রশিদ জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।
সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য কুমিল্লা আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছেন সমাজসেবক মনজুরুল আলম ভূঁইয়া। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুটি নির্মিত হলে দুই গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে লাশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা চলাচলও সম্ভব হবে না।
বড় আকারের পরিবর্তে ছোট আকারে সেতু নির্মাণের দাবিতে দরাজখোলা গ্রামের সমাজসেবক মনজুরুল আলম ভূঁইয়া হাইকোর্টে একটি পিটিশন করেন। ওই পিটিশনের ভিত্তিতে কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীকে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দিলেও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
মনজুরুল বলেন, ‘আমরা ব্রিজ চাই, তবে ছোট আকারে ব্রিজ। কিন্তু বড় আকারে ব্রিজ নির্মাণ করায় সরকারি খালে আমার অনুমতি না নিয়ে আমার জমি থেকে ঠিকাদার জোরপূর্বক সন্ত্রাসী বাহিনীর সাহায্যে মাটি কেটে নিচ্ছে।’
দরাজখোলা গ্রামের সমাজসেবক মুসা কলিমুল্লাহ বলেন, ঠিকাদার হারুন ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে কাজ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার হারুন বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে কাজ করছি।’
এ বিষয়ে জানতে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।