অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মনোনয়ন বাছাইয়ের শুরুতেই ঋণখেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন বৈধকরণের মাধ্যমে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদের কথা বলে, সবার আগে বাংলাদেশের কথা বলে বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার টাউন হল মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণভোট এবং নিজস্ব প্রার্থীদের শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত নির্বাচনী পথযাত্রায় এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন ভোটাররা দুটি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। বিগত ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ এবার একটি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় জোট দেশের ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, জনগণ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করবে। তবে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ আরও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে। এতে শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও উপকৃত হবে।’
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেই প্রতীকেই ভোট দেন না কেন—দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, রিকশা কিংবা ধানের শীষ—গণভোটের ব্যালটে অবশ্যই হ্যাঁ ভোটে একটি সিল দেবেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং টেকসই সুফলের জন্য আমরা সবাই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, ইনশা আল্লাহ।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত দেড় বছরে পুনরায় সব প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংস্কার কমিশনের মাধ্যমেও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। শুধু উচ্চপর্যায়ের একটি সভার মাধ্যমেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক—কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়িত হবেই।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও কুমিল্লা-৬ নির্বাচনী আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন সিএফ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ও যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. সোলাইমান, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার সভাপতি মিয়া মো. তৌফিক, এনসিপির চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক মাহবুব আলম প্রমুখ।
এ ছাড়া সভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর ও উপজেলার নেতারা বক্তব্য দেন।