দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসর নেওয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকসার-দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সংবর্ধনা শেষে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত আবেগঘন এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সরকারি চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শাহজালাল সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন মাস্টার। প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ সফিউল্লাহ, মাওলানা মাসুদুল হক, ডা. মাঈন উদ্দিন মাসুদ, আবুল কালাম আজাদ রাসেল, আবুল কালাম আজাদ ও ইদ্রিস ফরাজী বাবলু। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার ভৌমিক। বক্তারা বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও মানবিক শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত। জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যাডাম তাঁর ৩২ বছরের কর্মজীবনে জ্ঞানের যে আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা বহুদিন শিক্ষার্থীদের পথ দেখাবে। সভাপতির বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন মাস্টার বলেন, ‘তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।সংবর্ধনার জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘বিদ্যালয়, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা কখনো শেষ হওয়ার নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষিকার কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরা হয়। একপর্যায়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। পরে বিদ্যালয় ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও বিভিন্ন স্মারক উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসকে মোটর শোভাযাত্রা করে তাঁর নিজ বাড়ি নোয়াপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে বর্ণিল ও স্মরণীয়।