কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীদের গুলিতে আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও) প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর দুই সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ৭ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিম বালুখালী ৭ নম্বর ক্যাম্পের এফ-২ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। আর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন একই ক্যাম্পের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা তোফায়েল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও জি-ব্লকের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, সন্ধ্যায় বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট থেকে হালিমসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন।
মোটরসাইকেলটি ৭ ও ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংযোগ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের লক্ষ্য করে আরসা সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুজন এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার সদস্যরা জড়িত বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি সিরাজ আমিন জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিমের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দী ছিলেন। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তাঁর নেতৃত্বে এআরও নামের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনটি গঠন করা হয়। এ কারণে আরসার সদস্যরা হালিমের ওপর ক্ষুব্ধ হন।