কক্সবাজারে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব শুরু হয়। চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত।
জলকেলি উৎসব উপলক্ষে শহরের রাখাইনপাড়ায় তৈরি করা হয়েছে ৪০টি মণ্ডপ। এসব মণ্ডপে জলকেলিতে মেতেছেন রাখাইন তরুণ-তরুণীরা। উৎসব উপভোগ করতে স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাও ভিড় করছেন।
রাখাইন তরুণ-তরুণীরা মণ্ডপের প্যান্ডেলে অপেক্ষা করছেন ড্রামভর্তি স্বচ্ছ পানি নিয়ে। এসব পানি একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে চলছে মাঙ্গলিক শুদ্ধতার সামাজিক প্রথার চর্চা। নানা রঙের ফুল আর রঙিন কাগজে সাজানো প্যান্ডেলের একপাশে তরুণ আর অন্যপাশে তরুণীর দল। বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন তাঁরা।
রাখাইনদের বিশ্বাস, এই পবিত্র মঙ্গলজল ছিটানোর মাধ্যমেই ধুয়ে যায় বিগত বছরের সব অপ্রাপ্তি, অমঙ্গল ও অসংগতি।
এদিকে শহরের ক্যাংপাড়া, চাল বাজার, হাঙ্গরপাড়া, টেকপাড়া ও বার্মিজ স্কুল রোড থেকে শুরু করে মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া ও রামুর অন্তত অর্ধশত গ্রামে বসেছে জলিকেলি উৎসব।
বাংলাদেশ রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংছেন হ্লা রাখাইন জানান, আগামী রোববার পর্যন্ত শহরে জলকেলি উৎসব চলবে। নতুন বছরে সম্প্রীতি আর আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই উৎসব গুরুত্ব বহন করে। এ উৎসবে রাখাইন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সব ধর্মের লোকজন ছুটে আসেন।
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবের শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।