হোম > সারা দেশ > চুয়াডাঙ্গা

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের চারা ও বাঁশ সরবরাহ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­

দামুড়হুদা উপজেলায় নিম্নমানের চারা ও বাঁশের ফালি করা (চেরা) খুঁটি বিতরণ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চুয়াডাঙ্গায় ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণের সরকারি উদ্যোগ শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রকল্পের আওতায় চারটি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার নিয়ে নিম্নমানের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কম দামের ও মানহীন চারা এবং বাঁশের খুঁটি সরবরাহ করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। এর আওতায় চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ২৫ হাজার চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণ এবং রোপণের কাজ শুরু হয়েছে।

তবে উপকরণ বিতরণের পর থেকেই নিম্নমানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি বাঁশের খুঁটির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু সরবরাহ করা খুঁটিগুলো অপরিপক্ব ও নিম্নমানের। একইভাবে বিভিন্ন প্রজাতির চারার জন্য ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বিতরণ করা চারার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উপকারভোগীরা।

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা-দুর্গাপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের নিয়ে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে চারা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ইউপি সদস্য শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। কৃষকেরা সরবরাহ করা উপকরণ নিম্নমানের দাবি করে তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ইউপি সদস্য ফরহাদ একাই চারাগুলো নিয়ে গ্রামের রাস্তায় রোপণ করেন। তাঁর দাবি, রোপণ করা চারার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে মারা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি হিসাবে আমড়া, জাম ও বেলের প্রতিটি চারার দাম ৩০ টাকা, জলপাই ৪০ টাকা, খেজুর ৩০ টাকা এবং আম ও তাল ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হর্টিকালচার ও বিএডিসি থেকে আমড়া, জাম ও বেলের চারা ২০ টাকা, জলপাই ২০ টাকা এবং কতবেল ৩০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। বেসরকারি নার্সারি থেকে আরও কম দামে কিছু চারা কেনার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি বাঁশের খুঁটির সরকারি মূল্য ৫০ টাকা ধরা হলেও সরবরাহ করা খুঁটির প্রকৃত মূল্য ১৫ থেকে ২০ টাকার বেশি নয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, চারা ও খুঁটির প্রকৃত মূল্য এবং সরকারি বরাদ্দের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে সেখানে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। এ ঘটনায় তাঁরা তদন্ত করে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে এক বছরে পাঁচ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের উপজেলায় ১ হাজার ৪৪০ জন কৃষকের জন্য প্রায় ৭ হাজার ২০০টি চারা বরাদ্দ ছিল। ইতিমধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়েছে।’

চারা নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএডিসি ও হর্টিকালচার থেকে সরবরাহ করা বেশ কিছু চারার উচ্চতা আদর্শ মানের ছিল না। কৃষকেরা অভিযোগ জানানোর পর প্রায় ৮৫০টি চারা হর্টিকালচার সেন্টারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত চারা পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।’

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ বছর প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার ১৫০ জনকে তিনটি প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের চারা বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি কৃষককে পাঁচটি করে চারা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু চারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরেও বিতরণ করা হয়েছে। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এসব চারা মনিটরিং করা হবে।’

তবে নিম্নমানের চারা সরবরাহের অভিযোগের দায় নিতে নারাজ চুয়াডাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ। নার্সারি তত্ত্বাবধায়ক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘হর্টিকালচার সেন্টার থেকে সরবরাহ করা প্রতিটি চারা মানসম্পন্ন ছিল। চারটি উপজেলাতেই আমরা চারা সরবরাহ করেছি। বিতরণের ৮-১০ দিন পর কিছু মৃত চারা পরিবর্তনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। মৃত চারা পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই। তবে ছোট চারা হলে তা পরিবর্তন করা যায়।’

চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার কেনার প্রক্রিয়া সরকারি নির্দেশনা ও টেন্ডারের মাধ্যমে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, ‘খুঁটির বিষয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খুঁটি সরবরাহ করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ জায়গায় ভালো খুঁটি পাওয়া গেছে। খুঁটির মূল্যের সঙ্গে সরকারি ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচও যুক্ত থাকে।’

চারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএডিসি ও হর্টিকালচার থেকে চারা সংগ্রহ করেছি। কোথাও চারার মান নিয়ে সমস্যা থাকলে তা পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএডিসির বারাদি ফার্মে গিয়ে আমি নিজেও চারা দেখেছি। নিম্নমানের হওয়ায় সেখানকার কিছু চারা আমরা নিইনি। পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া থেকে চারা সংগ্রহ করা হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার আওতায় চুয়াডাঙ্গাতেও বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে পাঁচটি গাছ, পাঁচ কেজি সার ও খুঁটি দেওয়া হবে।’

নিম্নমানের চারা ও খুঁটির অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। নিম্নমানের চারা বা খুঁটি পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন করে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গাছগুলো যেন দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং গবাদিপশু যাতে ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

জীবননগরে ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

ভারতে পাচারকালে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১

জীবননগরে সাইকেল পেল অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ৩১ শিক্ষার্থী

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত: খাল খনন শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

আলমডাঙ্গায় মাঠ থেকে নিখোঁজ কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

রাতে ফুটপাতে, দিন কাটে আদালতের বারান্দায় ঘুরে

জীবননগরে সীমান্ত থেকে মাদকসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার