চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাসের হার কমে যাওয়ায় বোর্ডে এবার ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। এবার শুধু একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
বোর্ডের ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর ২০০৯ সালে তা নেমেছিল ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশে। ২০২৬ সালের আগে আর কোনো বছর পাসের হার ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০২১ সালে বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩। এর আগে ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ জন, ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন এবং ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এ ধরনের ফলাফলের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘এবারের ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। পড়াশোনা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে।’
চট্টগ্রাম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ইংরেজি প্রথমপত্রে পাসের হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং গণিতে ৮০ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় কম। এক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়াও সামগ্রিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন পার্বত্য জেলার ফলও সামগ্রিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বান্দরবানে এবার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার ফলাফল সামগ্রিক ফলাফলের উপর সব সময় প্রভাব ফেলে। এবারের প্রভাবটা বেশ বিপর্যয়কর ও বড়।’