বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার সব পাহাড়ি ঝরনা আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। গতকাল সোমবার বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে ঝরনাগুলোতে পানির প্রবল স্রোত ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় এবং ঝরনাগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেগুলো আবারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পার্কের আওতাধীন সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
এরও আগে ৭ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রথম দফায় তিন দিনের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে মোট ১১টি ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া।
ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স থ্রি বি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারহোল্ডার এস. এম. হারুন বলেন, ‘বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এত দিন সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনা পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে টিকিট বিক্রি ও পর্যটক প্রবেশ স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়েছে।’
বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘আবহাওয়ার উন্নতি এবং ঝরনাগুলোর পানির প্রবাহ কমে আসায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পর্যটকদের জন্য ঝরনাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’
আশরাফুল আলম আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে আবারও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হলে পর্যটকদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’