বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর হাটের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে হাটের টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সমাবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলায় ১৭টি সরকারি হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি হাট সরকারিভাবে দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে, অন্য ছয়টির ইজারা হয়নি।
ইজারা দেওয়া ১১টি হাটের মধ্যে মথুরাপুর ও সোনাহাটা হাট নিয়ে সাবেক ইজারাদাররা উচ্চ আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত ওই দুই হাটে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দুই হাটে সরকারি টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌহিদুল আলমের সমর্থক, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মথুরাপুর হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম টোল আদায়ের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সমর্থক ও মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেল হোসেন ঠান্ডুর নেতৃত্বে বিএনপির আরেকটি পক্ষ তাঁকে বাধা দেয়।
এর পর থেকে দুই পক্ষ হাট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে। গত শুক্রবার ও সোমবার মথুরাপুর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ বুধবারও জাহাঙ্গীর আলম টোল আদায়ের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের ধাওয়া খেয়ে ফিরে যান।
ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত বছর সরকারিভাবে আমার নামে হাট ইজারা দেওয়া হয়, কিন্তু প্রশাসন আমাকে হাট বুঝিয়ে দেয়নি। এতে আমার লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী টোল আদায় করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেল হোসেন ঠান্ডু বলেন, ‘মথুরাপুর হাটের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এরপরও সাবেক ইজারাদার টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্দেশে আমরা তা বন্ধ করেছি। কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘চলতি বছর মথুরাপুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক ইজারাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।’