বগুড়ায় আত্মহত্যা করা ব্যবসায়ী রাহুল যাদবের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার (১৭ মে) রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন নিহত রাহুল যাদবের বাবা নিরঞ্জন গোয়ালা। তিনি বগুড়া শহরের নামাজগড় ডালপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী।
মামলায় রাহুলের সাবেক স্ত্রী প্রিয়া রানী মহন্ত (২৮), তাঁর বর্তমান স্বামী হৃদয় মহন্ত (২৫) ও প্রিয়ার বাবা প্রদীপ মহন্তকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে রাহুল যাদবের সঙ্গে প্রিয়া রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রিয়া রানীর সঙ্গে হৃদয় মহন্তের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হৃদয় মহন্ত ও প্রিয়ার বাবা প্রদীপ মহন্তকে জানানো হলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এতে আরও বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে কোচিং সেন্টারে নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি প্রিয়া রানী। কয়েক দিন পর তিনি হৃদয় মহন্তকে বিয়ে করেছেন—এমন একটি হলফনামা পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি ছাড়ার সময় তিনি নগদ ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।
এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন রাহুল যাদব। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, স্ত্রীর চলে যাওয়া এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাহুল। ফেসবুক স্ট্যাটাসেও তিনি সেই বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।