বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনের সেতুটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে যান উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন মঙ্গলবার ওই সেতুর ঢালাইয়ের সময় উত্তরের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সংযুক্ত করে দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ব্রিজের ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে সেতুটি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, ‘সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠাই। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। সেতুর স্ট্রাকচারটি বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১%-এর অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওপরের ঢালাই করা হয়নি। এই অর্থবছরে সেতুর ঢালাই করার জন্য আবেদন এসেছে। আমরা কোনো অর্থ বরাদ্দ বা অনুমোদন করিনি। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই করেছেন এবং সেতুর শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন বাঁশের ব্যবহারের কারণে স্ট্রাকচার ও ঢালাই যথেষ্ট মজবুত হয়নি। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে সেতুটি আমরা নির্মাণ করে দেব। আর ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করে যে আমাদের উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’