বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চাকরি বহাল রাখার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। আজ বুধবার সকাল ৮টায় হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে করিডোরে অবস্থান নেন তারা। দিনব্যাপী এ কর্মসূচির কারণে আউটডোরের সেবা ব্যাহত হয়।
অবস্থানকারীদের দাবি, দুই বছর ধরে তারা সরকারি সব নিয়মকানুন মেনে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদার এইচ আর ডি এ্যান্ড ই এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান অজানা কারণে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মচারীদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। চাকরি ফিরে পেতে ৬৬ জন কর্মচারী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেছেন। চাকরিতে বহাল না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, “আমাদের নিয়োগ দুই বছরের মতো হলেও, এখানে অনেক কর্মচারী আছেন যারা ২০ বছর ধরে হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন নামমাত্র বেতন এমনকি বিনা বেতনে সেবা দিতে দিতে দক্ষ হয়েছেন তাঁরা। এসব কর্মচারীদের উপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবা গ্রহীতারা অনেক খুশি, তারপরও আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের চাওয়া একটাই, আমাদের চাকরি বহাল চাই।”
আউটসোর্সিং কর্মচারী আকলিমা বলেন, “২০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সেবা দিচ্ছি। করোনার সময় জীবনের মায়া না করে করোনা রোগীদের সেবা দিয়েছি, মৃতদের গোসল করিয়েছি। তখন তেমন বেতনও পেতাম না, বছর দুয়েক হলো আমরা আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হই। মাসে সামান্য টাকা পাই, তাতে মোটামুটি সংসার চলত। এভাবে চাকরিটা চলে গেলে আমরা খাব কী।”
কার্জন নামের আরেক কর্মী বলেন, “আমরা প্রায় ৬ মাস বেতন পাই না। এর মধ্যে আমাদেরকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে। আমাদের অপরাধ কী? যদি আমাদের বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে তাহলে সেটা বলুক, আমরা অপরাধী হলে চলে যাব। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো অপরাধ ছাড়া আমাদের বাদ দিতে পারবে না। আমরা এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবার কাছে আবেদন করেছি। কোনো কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাব।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানের সময় তাদের কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদারের চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কর্মচারীদের নিয়োগপত্র দিয়েছে ঠিকাদার।
বেলা ১১টার দিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা হাসপাতালে যোগদান করতে এলে অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা পুরোনো কর্মচারীদের সঙ্গে হট্টগোল হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সৌরভ কুমার মণ্ডল এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এর আগে প্রায় এক মাস ধরে চাকরি বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। সর্বশেষ বুধবার প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
নবনিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচ আর ডি এ্যান্ড ই এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান অথবা তার কোনো প্রতিনিধিকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মো. সাইদুর রহমানকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, `পুরোনো কর্মচারীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত যে আদেশ দেবে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব। সবাইকে আপাতত ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে।'
সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, `প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় আউটডোরে রোগীদের সেবা দিতে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডের কক্ষে বসে সেবা চালু রাখা হয়েছে।'