গাজীর গান হলো গাজী পীরের বন্দনা ও মাহাত্ম্য গীতি। এই গানের সঙ্গে মিলিয়ে ছন্দে-তালে শিল্পীরা পরিবেশন করে নাচ। একে তাই গাজীর নাচও বলা যায়। গাজী পীর, অসাম্প্রদায়িক। গাজীর গানে মূল গায়েন বা ‘গাজীর খলিফা’ গায়ে আলখাল্লা ও মাথায় পাগড়ি পরে হাতে একটি ‘আসা দণ্ড’ (লাঠি) নিয়ে তাল ও ছন্দের তালে পা ফেলে আসরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে নাচেন। মূল গায়েনের সঙ্গে থাকেন ঢোলক, বাঁশিবাদক এবং চার-পাঁচজন দোহার বা সহগায়ক। তাঁরা নাচের তালে তালে গান করেন ও বাদ্যযন্ত্র বাজান।
মূলত ফরিদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে এ গান একসময় প্রচলিত ছিল। সন্তান লাভ, রোগব্যাধির উপশম, বেশি বেশি ফসল উৎপাদন কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি; এমন মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে গাজীর গানের পালার আয়োজন করা হতো। কারবালার ময়দান, মক্কার কাবাগৃহ, কাশীর মন্দির ইত্যাদি পবিত্র স্থান অঙ্কিত গাজীর পটচিত্র দেখিয়ে নাচ-গান পরিবেশন করত বেদে সম্প্রদায়ের একটি অংশ। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গাজীর গানের পালা করে ধান অথবা টাকা নিয়ে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করত।
ছবি: সংগৃহীত