কীর্তন নাচ হলো ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভূত একটি আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক নৃত্য। ৫০০ বছর পুরোনো এই নৃত্যকলাটি সাধারণত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র বা ঈশ্বরের নামসংকীর্তনের সঙ্গে পরিবেশিত হয়। কথিত আছে—পুরাকালে নারদমুনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর নামবন্দনা করতেন কীর্তন নৃত্য পরিবেশন করে। শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে দলে দলে ভক্তরা কীর্তন নাচের মাধ্যমে নিজেদের ভক্তি ও প্রেম নিবেদন করতেন এবং সেই ভক্তিগীতিতে প্রসন্ন হলে শ্রীকৃষ্ণ তাদের স্বয়ং দেখা দিতেন। ভক্তিযোগের অংশ হিসেবে ভক্তরা সম্মিলিতভাবে সুর ও তালে তালে হাত ওপরে তুলে করতালি দিয়ে নেচে এবং ঘুরে ঘুরে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। এই ধরনটি অহংকার বর্জন এবং ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক। কীর্তন নাচে মৃদঙ্গ (খোল), করতাল ও হারমোনিয়াম ব্যবহার করা হয়। পঞ্চদশ শতকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর সঙ্গী নিত্যানন্দ প্রভু বাংলায় এই ধারার প্রচলন করেন। ভারত ছাড়াও প্রতিবছর ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা এবং সিলেটের বিভিন্ন আখড়া ও মন্দিরে বৃহৎ পরিসরে নামযজ্ঞ ও কীর্তন উৎসব হয়।
ছবি: সংগৃহীত