একটা সময় বিমানবন্দর অফিসার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী। কিন্তু পরে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মেজর হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ায়। অপারেশন সার্চলাইটের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার ঘাঁটিতে পৌঁছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শুরুর আগেই অবশ্য তিনি কুষ্টিয়া থেকে বরিশাল জেলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গন নামকরণ করে সেটির অধিনায়ক হন। এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করে। মে মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনকে দুই ভাগ করে ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টর গঠন করে তাঁকে ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রকাশিত কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, সময়ের অভিব্যক্তি, বঙ্গবন্ধু: শতাব্দীর মহানায়ক ইত্যাদি। আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও স্বাধীনতা পদকের মতো সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের এই নায়ক।
ছবি: সংগৃহীত