হোম > নারী

আন্তর্জাতিক নারী

আফগানিস্তানে নারীবিদ্বেষ বাড়াচ্ছে সহিংসতা

কাশফিয়া আলম ঝিলিক, ঢাকা 

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তান ও নারী—শব্দ দুটি যেন দিন দিন সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন?

দেশটির শাসকগোষ্ঠী দেশটির নারী জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ আলাদা ভেবে রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তা করছে। আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য অনেক আইন জারি করা হচ্ছে, যেগুলো নারীবান্ধব নয়। দেশটিতে নারীদের অধিকারের কথা না ভেবে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নারীদের পিছিয়ে দিচ্ছে।

শিক্ষার অধিকার থেকে নারীদের বঞ্চিত করার প্রবণতা তালেবান সরকারের পুরোনো প্রবণতা। এমন আরও প্রবণতা চলমান থাকায় মসজিদ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই আফগান নারীরা হুমকি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বলা চলে, আফগানিস্তানে নারীদের প্রতি ঘৃণা ও নিপীড়ন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমসহ প্রায় সব জায়গায় নারীবিদ্বেষী মন্তব্য এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা আফগানিস্তানের সীমানার বাইরে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপে বসবাসকারী এক আফগান টিকটকার নারীদের হত্যার প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হারুন মালিক নামে সেই টিকটকার খোলামেলাভাবে নারীদের হত্যা করার জন্য ভিডিও পোস্ট করছেন। তাতে ভিউ হচ্ছে হাজার হাজার। তিনি এক ভিডিওতে বলেছেন, ‘সম্মানিত আফগান পুরুষেরা, যখন স্ত্রী আপনার সঙ্গে প্রতারণা ও অপমান করছে, তখন তার মাথা বালিশচাপা দিয়ে রাখুন, যাতে ইরান ও আফগানিস্তানের অন্যান্য নারী শিক্ষা নিতে পারে।’ পরে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচার শুরু করে পিটিশন করা হয়। হারুন মালিকের মতো ভাষা ও বর্ণনার ক্রমবর্ধমান স্বাভাবিকীকরণ নারী অধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের মানসিকতা সমাজের মৌলিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে, এমনকি পরিবারের গভীরে পৌঁছে যাচ্ছে।

শুধু তা-ই নয়, অভিবাসনে থাকা আফগান নারীরাও দেশটিতে বসবাস করা নারীদের মতো ঝুঁকিতে আছে। গত মাসে জার্মানিতে বসবাসরত ৩৩ বছর বয়সী এক হেরাতি নারীকে তাঁর স্বামী খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক সমস্যার জের ধরে ৩ ডিসেম্বর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছের ছোট শহর বেনশেইমে তাঁদের দুই সন্তানের সামনে সেই নারীকে গলা কেটে

হত্যা করা হয়। এদিকে ৭ ডিসেম্বর ৩১ বছর বয়সী এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীর বিরুদ্ধে জার্মানির পূর্ব ওয়েস্টফালিয়ায় তাঁর ২০ বছর বয়সী স্ত্রীকে বাথটাবে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম ‘রুখসানা মিডিয়া’ তাদের আর্কাইভ থেকে জানিয়েছে, ২০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে সাতজন নারী ও মেয়েকে তাঁদের আত্মীয়রা নির্মমভাবে হত্যা করে। কোথাও ছেলে মাকে খুন করছে, কোথাও বাবা মেয়েকে খুন করছে, কোথাও স্বামী স্ত্রীসহ কন্যাসন্তানকে হত্যা করছে, কোথাও পুত্রবধূকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।

এ মৃত্যুর যেন কোনো শেষ নেই। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, আফগানিস্তানের কোনো স্তর থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ উঠছে না। এই নীরবতা আরও ভয়ংকর।

সূত্র: রুখসানা মিডিয়া

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, সংখ্যা বাড়ছে নির্যাতিতের

শেক্‌সপিয়ার বিশেষজ্ঞ ভয়ংকর এক নারী ইয়েং থিরিথ

ক্ষত আর স্বপ্ন নিয়ে নতুন ভোরের অপেক্ষায় নারীরা

বইকে বেঁচে থাকার শক্তি হিসেবে দেখাতে চান দিয়া

সৌন্দর্যশিল্পের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী এলিজাবেথ আরডেন

বড়দিনের বিখ্যাত গানগুলোর নেপথ্যের নারীরা

উদ্যোক্তা মেলা: সংখ্যা কমলেও আশাবাদী নারী উদ্যোক্তারা

রোজের ফুটে ওঠার গল্প

আন্তর্জাতিক নারী: অন্ধকার আকাশ যাঁর ল্যাবরেটরি