যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের কালো তালিকায় থাকা চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট আলীবাবা, বাইদু ও ট্যানসেন্টের মতো সিঙ্গাপুরভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা সরবরাহ করেছে ওপেনএআই ও গুগল। চীনা কোম্পানিগুলোর মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে সেগুলোকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বর্তমান মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে এসব সেবা দেওয়া আইনসংগত। কারণ, বিদ্যমান নিয়মে কালো তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন এআই মডেলে প্রবেশাধিকার পাওয়া থেকে সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের মতে, ওপেনআই ও গুগল উভয়ই পত্রিকাটিকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা আলীবাবা, বাইদু ও ট্যানসেন্টের সিঙ্গাপুরভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এআই মডেল ও সংশ্লিষ্ট সেবা সরবরাহ করেছে।
এই তিন প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানিই পেন্টাগনের তথাকথিত ‘১২৬০ এইচ তালিকায়’ রয়েছে। এই তালিকায় এমন সব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—তারা চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। প্রতিবেদনটি ওয়াশিংটনের চীনের এআই উন্নয়ন ধীরগতির করার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলকে লক্ষ্য করে তৈরি। মূল ভূখণ্ড চীনের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও সিঙ্গাপুরের মতো বিচারব্যবস্থাগুলো সেই সীমাবদ্ধতার বাইরে রয়েছে।
ফলে, কোনো কালো তালিকাভুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠানের সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের আইনের আওতায় পরিচালিত হয় এবং এমন সব চুক্তিতে অংশ নিতে পারে, যা মূল ভূখণ্ডে থাকা তাদের মূল কোম্পানির পক্ষে করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ডিস্টিলেশন (একটি শক্তিশালী বা বড় এআই মডেলের জ্ঞান, উত্তর দেওয়ার ধরন বা সক্ষমতা ব্যবহার করে আরেকটি ছোট বা প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেলকে প্রশিক্ষিত বা উন্নত করার প্রক্রিয়া) কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত মাসে আলীবাবার সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের এপিআই অ্যাকসেস স্থগিত করে ওপেনএআই।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এই কার্যক্রমের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে রিপোর্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তারা চীন থেকে তাদের এআই মডেলে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখে। তবে যেসব চীনা মালিকানাধীন কোম্পানি এমন বিচারব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, যেখানে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব, তাদের কিছু ক্ষেত্রে সেবা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে গুগল জানিয়েছে, তাদের এআই সেবা সিঙ্গাপুর, হংকংসহ বিভিন্ন বাজারে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং তা কোম্পানির ব্যবহার নীতিমালার অধীন পরিচালিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও স্বীকার করেছে যে, কেবল ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করলেই দক্ষ বা কৌশলী ব্যবহারকারীদের এসব নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়া পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অ্যানথ্রপিক আরও কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনে সদর দপ্তর থাকা কোম্পানি ও তাদের মালিকানাধীন বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাদের উন্নত এআই মডেলে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এর আগে অ্যানথ্রপিক অভিযোগ করেছিল যে, চীনের এআই গবেষণাগার ডিপসিক, মুনশট ও মিনিম্যাক্স ডিস্টিলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসকে অ্যানথ্রপিক জানায়, আলীবাবা তাদের ক্লদ এআই মডেলের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে তৈরি করা লাখো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি (২৮ মিলিয়নের বেশি) কথোপকথন পরিচালনা করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির পরিষেবা ব্যবহারের শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে বলে তারা দাবি করেছে।