ইন্টারনেটে নিজের নাম লিখে সার্চ করা অনেকের অভ্যাস। একে বলে ভ্যানিটি সার্চ। তবে চেনা অভ্যাসটি এখন আর আগের মতো খাটে না। মানুষ এখন সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে চ্যাটবটের কাছেই কারও পরিচয় জানতে বেশি পছন্দ করছে। ঠিক এই ভাবনা থেকে থমাস ডিমসন এবং জোই ফ্লিন তৈরি করেছেন এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট। তার নাম ইন দ্য ওয়েটস।
সহজ কথায়, একটি এআই মডেলের ট্রেইনিং ও আউটপুট তৈরি হয় কিছু গাণিতিক প্যারামিটার বা ‘ওয়েটস’-এর ওপর ভিত্তি করে। এই ওয়েবসাইট পরিমাপ করে, কোনো চ্যাটবট ওয়েব সার্চের সাহায্য ছাড়া শুধু নিজের স্মৃতির ওপর ভর করে কাউকে কতটা মনে রাখতে পারে। ওয়েবসাইটটির ভাষায়, ‘ইন দ্য ওয়েটস-এ থাকার মানে হলো, একটি অতিমানবীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রক্রিয়ায় আপনার অস্তিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।’ এই প্ল্যাটফর্ম গ্রোক, জেমিনি, জিপিটির বিভিন্ন সংস্করণ, ক্লদ এবং লামার মতো ১৩টি এআই মডেলের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় ‘এই ব্যক্তি কে?’, মডেলগুলো তখন সর্বোচ্চ ১০টি বিবরণ ও তাদের আত্মবিশ্বাসের হার জমা দেয়। এরপর ওয়েবসাইটটি সেই বিবরণগুলোকে ক্লাস্টার কিংবা দলভুক্ত করে একটি ‘স্ট্রেন্থ স্কোর’ বা শক্তির নম্বর দেয়। যেমন লিডারবোর্ডের শীর্ষে থাকা হোম অ্যালোন খ্যাত তারকা ম্যাকাওলে কালকিনের স্কোর ৯৮৮। এদিকে অপেরা শিল্পী লুচিয়ানো পাভারোত্তির চেয়ে এটি বেশ কম।
ওপেনএআই ছেড়ে আসা ডিমসন জানান, ২০২৬ সালে এসে ইন্টারনেটের ট্রাফিক গুগলের চেয়ে এলএলএম মডেলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এই সময়টাতে মানুষের জীবন কীভাবে এআইয়ের মগজে ভাসমান সংখ্যার সমাহারে পরিণত হচ্ছে, তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সাইট। নিনটেন্ডোর মতো রেট্রো ডিজাইনে গড়া সাইটটি মানুষের মধ্যে অমরত্ব পাওয়ার এবং একে অপরের সঙ্গে তুলনা করার এক অদ্ভুত কৌতূহল উসকে দিয়েছে। এআই সমালোচকেরা অবশ্য একে স্রেফ ১৩টি চ্যাটবটকে নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার শামিল বলে টিপ্পনী কেটেছেন। তবে এআইয়ের এই কৃত্রিম মগজে কে টিকে থাকতে পারবে, আর কে হারিয়ে যাবে, সেই প্রতিযোগিতার সহজ স্কোরবোর্ড হিসেবে এটি দারুণ সাড়া ফেলেছে।
সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ