২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে দলটির উদ্যাপন। ম্যাচ শেষে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনা’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন ফুটবলাররা। যে ঘটনা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
মাঠে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এই উদযাপন নিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও অনেক সমালোচনা হয়েছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও সেই উদযাপন নিয়ে আলোচনা থামছে না। এবার জানা গেল সেই ব্যানারটি কীভাবে খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছেছিল।
শনিবার এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি বুঝতেই পারিনি যে ফকল্যান্ডসের পতাকাটি নিচে ছুড়ে দেওয়ার মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার দুই সপ্তাহ পর ভিডিও ও ছবিগুলো দেখতে গিয়ে হঠাৎই বিষয়টি চোখে পড়ে। তখনই বুঝলাম, অজান্তেই আমি সেই মুহূর্তটি ধারণ করে ফেলেছিলাম। অবিশ্বাস্য!’
ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া ব্যানারটি মাঠে পড়ে। ম্যাচে এক মিনিটও না খেললেও সেটি সবার আগে দেখতে পান জিওভানি লো সেলসো। ব্যানারটি তুলে বার্তাটি পড়ার পর তিনি সেটি গ্যালারির দিকে তুলে ধরেন। পরে লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে ব্যানার হাতে উদ্যাপনে যোগ দেন। এরপর লো সেলসো ব্যানারটি মাঠে মেলে ধরলে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন আলোকচিত্রীরা। মুহূর্তেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ম্যাচের পর ব্যানারটির উৎস নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। পরে মিলো ২০১৫৪ (@Milo20154) নামের এক ব্যবহারকারী একটি আগে না-দেখা ছবি পোস্ট করে জানান, ‘এটি আমার ভাবির কাজিন এঁকেছেন। এটি আসলে হোটেলের একটি চাদরের অংশ।’ সেই পোস্টের পর ব্যানারটির উৎস নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যেরও ইতি ঘটে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ‘ফুটবলকে রাজনীতির সঙ্গে মেশানো উচিত নয় এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কূটনৈতিক পথেই পুনরুদ্ধার করা হবে’ বলে মন্তব্য করেন মিলেই।