হোম > খেলা > ফুটবল

স্বপ্ন থেকে উৎসব: বিশ্বকাপে পাল্টে যাওয়া কেপ ভার্দের গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক    

কেপ ভার্দে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ সাফল্য দেশটিতে এক অভূতপূর্ব উদযাপনের আবহ তৈরি করেছে। ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবল দল ‘ব্লু শার্কস’ নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পর থেকে পুরো দেশ কার্যত উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, গাড়ি থেকে শুরু করে মোটরবাইক—সব জায়গায় এখন উড়ছে জাতীয় পতাকা।

সান্তিয়াগো দ্বীপের প্রাইয়ায় হওয়া ফেস্টিভাল দা গাম্বোয়ার উদ্বোধনী রাতেই এর প্রভাব স্পষ্ট ছিল। তিন দিনের এই বৃহৎ সংগীত উৎসবের মঞ্চ পরিণত হয় বিশাল এক বিশ্বকাপ পার্টিতে, যেখানে হাজারো মানুষ একসঙ্গে সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ উপভোগ করেন। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় কেপ ভার্দে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।

উদযাপন চলে ভোর পর্যন্ত। দর্শকদের একজন জ্যানিস মিরান্ডা বলেন, ‘এটা ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। এত বেশি কেপ ভার্দীয় মানুষ, সঙ্গে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা—সবাই মিলে এই অর্জন উদযাপন করেছে। আমাদের দলের বিশ্বকাপ অভিযান অসাধারণ, আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।’

দেশটির সাংবাদিক জোও পিনা জানান, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের দিন অর্ধদিবস সরকারি ছুটি দেওয়া হলেও আসলে কেউই কাজ করেনি।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স শুরু থেকেই নজর কাড়ছে। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, উরুগুয়ের বিপক্ষে কেভিন পিনার চমকপ্রদ গোল এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ভোজিনিয়ার সামাজিক মাধ্যমে অনুসারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখে।

শিক্ষক আনিবেলে লিজার্দো বলেন, ‘তারা বলেছিল আমাদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ, কিন্তু আমরা তা নিয়ে ভাবি না। আমরা শুধু উৎসব করতে চাই।’

কেপ ভার্দেতে এখন প্রতিটি ম্যাচই উৎসবের উপলক্ষ। প্রাইয়ার বিভিন্ন ফ্যান জোন থেকে শুরু করে সাও ভিসেন্তে দ্বীপের মিন্দেলো পর্যন্ত সর্বত্র চলছে উদযাপন। দেশটির বিভিন্ন স্থানে মানুষ জাতীয় দলের জার্সিকে দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে গ্রহণ করেছে।

এই প্রসঙ্গে মিরান্ডা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে পতাকা শুধু সরকারি ভবনে দেখা যেত, এখন তা ঘরবাড়ি, গাড়ি, মোটরবাইক—সব জায়গায়। রাস্তায় মানুষের কথাবার্তা এখন শুধু ফুটবল নিয়েই।’

বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নকআউটে ওঠা কেপ ভার্দের জন্য এটি ঐতিহাসিক সাফল্য। যদিও দেশটির কোনো পেশাদার ঘরোয়া লিগ নেই, তবে সংগঠিত ফুটবল কাঠামো ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংযুক্তিতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে।

নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি হবে মায়ামিতে। সে ম্যাচকে সামনে রেখে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বলেন, ‘মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করা আমার স্বপ্ন। একদিন আমি আমার সন্তানদের বলব, আমি তার বিপক্ষে খেলেছি।’

আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কেপ ভার্দে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায়। মিরান্ডা বলেন, ‘আমরা জানি আর্জেন্টিনা বিশ্বের সেরা দল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, তাদের হারানোর সক্ষমতা আমাদের আছে।’

ফল যাই হোক, দেশজুড়ে এই দলকে এখন জাতীয় নায়কের মর্যাদায় দেখা হচ্ছে। গাম্বোয়ার উৎসব শেষ হলেও কেপ ভার্দের আনন্দ এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে।

‘বিসমিল্লাহ’ বলেই কি পেনাল্টি নিয়েছিলেন রোনালদো, ভিডিও ভাইরাল

বিশ্বকাপ ব্যর্থতা: প্রাণনাশের হুমকিতে দেশ ছাড়লেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ

মিসরের হোটেলে উত্তেজনা: পুলিশ-অফিশিয়ালদের ধস্তাধস্তি

‘ক্রিকেটের প্রযুক্তি’ যেভাবে বাঁচিয়ে দিল রোনালদোদের

আর্জেন্টিনাকে আটকাতে কেপ ভার্দের কৌশল কী

‘আমি ব্রাজিলিয়ানদের অনেক ভালোবাসি’

ক্রোয়েশিয়ার বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা

পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিলের কারণ কী

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর অবসরে আলজেরিয়ার অধিনায়ক

বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় জার্মান কোচের পদত্যাগ