হোম > খেলা > ফুটবল

রোনালদো, এভাবে আর কত!

আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের খেলায় সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছবি: এএফপি

হিউস্টনের স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখনো উথালপাতাল ঢেউ। হাজার হাজার মানুষ ‘রোনালদো, রোনালদো’ বলে চিৎকার করছেন। এক ভক্তের হাতের প্ল্যাকার্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘বিশ্বকাপ থাকুক আর না থাকুক, তুমিই আমার সর্বকালের সেরা।’

এই অবিশ্বাস্য ভালোবাসা আর মোহ দেখে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মনে হতেই পারে, সময়টা এখনো তাঁরই আছে। কিন্তু ফুটবলের সবুজ ঘাস বড় নিষ্ঠুর এক আদালত; সেখানে অতীতের মহাকাব্য দিয়ে বর্তমানের রায় বদলানো যায় না। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটিতে রোনালদো যা উপহার দিলেন, তা কোনো গোল বা জাদুকরি ড্রিবলিং নয়, বরং বুক ভারী করা একাকী শূন্যতা। তিনি মাঠে ছিলেন রক্ত-মাংসের শরীর নিয়ে, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি ছিল এক অদৃশ্য ছায়ার মতো।

এই বিশ্বকাপে রোনালদোর চেয়ে বেশি বয়সে আর কেউ খেলছেন না। যখন ২০০৩ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল, পৃথিবীতে তখন জিমেইল নামের কোনো কিছুর অস্তিত্বই ছিল না। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যিনি ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন, তাঁর এই ক্ষয়িষ্ণুতা চোখের সামনে দেখা বড্ড বেদনার।

কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদো বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ২৫ বার! ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যখন বাইলাইন থেকে একটি নিখুঁত কাটব্যাক এল, রোনালদো শুধু নিজের গোলের ক্ষুধায় সতীর্থ ব্রুনো ফের্নান্দেসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। বলটি ছেড়ে দিলে যেখানে নিশ্চিত গোল হতে পারত, সেখানে রোনালদো নিজেই শট নিয়ে সুযোগ নষ্ট করলেন।

ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অরিঁ তো কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলে ফেলেন, ‘পর্তুগালের গোল দরকার, তোমাকে নয়।’ কঙ্গোর তরুণ মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউ ম্যাচ শেষে অবলীলায় বলে দিলেন, রোনালদোর জন্য তাঁদের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিল না, কারণ তাঁর বয়স হয়েছে। একসময় যাঁকে আটকাতে প্রতিপক্ষের সব ডিফেন্ডারের বিনিদ্র রাত কাটাত, এখন তাঁকে আটকাতে তারা কোনো মাস্টারপ্ল্যানেরই প্রয়োজন মনে করে না; একজন অতিমানবের জন্য এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে!

এর পেছনে চারপাশের মোহাচ্ছন্ন পরিবেশেরও দায় আছে। কোচ রবার্তো মার্তিনেস যখন ফুরিয়ে যাওয়া রাজাকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রেখে বলেন যে ইতিহাসের সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না, তখন তিনি মূলত রোনালদোর অহংকারকে আরও একটু উসকে দেন। সমর্থকেরা তো তাঁকে কখনো বুঝতেই দিতে চায় না যে সময় ফুরিয়েছে।

কিন্তু সংখ্যা তো মিথ্যা বলে না। বিশ্বমঞ্চ ও ইউরো মিলিয়ে পর্তুগালের হয়ে এখন টানা ১০টি বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচে গোলহীন রোনালদো। এই ১০ ম্যাচে ৩৩টি শট নিয়েও জালের দেখা পাননি তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে শেষ গোলের পর বিশ্বমঞ্চে এটি তাঁর টানা পঞ্চম ম্যাচ, যেখানে তিনি গোলহীন; যা ছুঁয়ে ফেলেছে ২০০৬-১০ সালের তাঁরই ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম খরাকে।

যখন ডান দিক থেকে ভেসে আসা এক চমৎকার ক্রসে একসময়ের ‘এয়ার রোনালদো’ লাফ দেওয়ার ন্যূনতম চেষ্টাও করলেন না, তখনই বোঝা যায় অভিকর্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে এই শরীর আর পেরে উঠবে না। হেরে যাচ্ছে সময়ের কাছে।

ম্যাচ শেষে সতীর্থরা যখন গ্যালারির দর্শকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছিল, রোনালদো তখন একা, মাথা নিচু করে স্টেডিয়ামের অন্ধকার সুড়ঙ্গপথের গভীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছিলেন। এক দিন আগেই তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে শেষের কবিতার শুরুটা লিখেছেন, আর রোনালদো ডুবছেন একাকী অন্ধকারের সুড়ঙ্গে। এতে রোনালদোর কোনো দোষ নেই, তিনি শুধু নিজের তৈরি করা ইতিহাসের খাঁচায় বন্দী এক রাজপুত্র। কিন্তু এভাবে আর কত!

ডেভিসের হ্যাটট্রিক, কাতারকে নিয়ে ছেলেখেলা করল কানাডা

ব্রাজিলের কোচের চাপ কি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি

সুস্থ হয়ে উঠছেন মেসির বাবা

‘সুপার সাবে’ সুপার সুইজারল্যান্ড

ক্ষুধার্ত ব্রাজিলের সামনে এবার পুঁচকে হাইতি

নেইমার রেখেই হাইতি মিশনে যাচ্ছে ব্রাজিল

চেকদের রুখে আশা জিইয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা

ড্রোন-কাণ্ডের ঘটনায় মুখ খুললেন দক্ষিণ কোরিয়া কোচ

স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত এই ফুটবলারকে ভিসা দেয়নি কানাডা

সুখবর পেল ব্রাজিল