বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। তাঁর রেকর্ড গড়া দুর্দান্ত এক গোলে জর্ডানের বিপক্ষে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই জিভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল জর্ডান। তবে ৮০ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক গোল সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটায়।
টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে আজ শুরুর একাদশে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা, যেখানে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল অধিনায়ক মেসিকেও। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। ৬ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে গোল করেছিলেন লো সেলসো, কিন্তু আলভারেস অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। ১২ মিনিটে কর্নার থেকে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এই ম্যাচে কিছুটা ভিন্ন কৌশলে দল সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। এসেকিয়েল পালাসিওসকে আজ রাইট ব্যাক পজিশনে খেলানো হয়। জর্ডান পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলায় কোনো চাপ ছাড়াই আক্রমণে সাহায্য করেন পালাসিওস। ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় দল। সেখান থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন লো সেলসো নিজেই।
আর্জেন্টিনা আক্রমণের চাপ ধরে রেখে ম্যাচের ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায়। এর আগে ২৮ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মার্কোস সেনেসি হেড করতে গেলে জর্ডানের আল-রাশদানের পা তার মুখে আঘাত করে। রেফারি ভিএআর দেখে আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট-কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। বিশ্বকাপে এটিই তাঁর প্রথম গোল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জর্ডান দু-একটা আক্রমণ করলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে আবারও লো সেলসোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৫৩ মিনিটে মার্তিনেসের একটি দূরপাল্লার শট জর্ডানের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক তখনই, ৫৫ মিনিটে গোল করে বসে জর্ডান। ডানপ্রান্ত থেকে হাদ্দাদের নিচু ক্রস পেয়ে দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান বদলি খেলোয়াড় মুসা আল-তামারি। এই গোলের পর ম্যাচটিতে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ম্যাচের ৬০ মিনিটের দিকে লিওনেল মেসিকে মাঠে নামান কোচ স্কালোনি। এর মধ্যে ৭৬ মিনিটে জর্ডান দলে আরেকটি পরিবর্তন আসে, নিজার আল-রাশদানের জায়গায় মাঠে নামেন আমের জামুস।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূরে মেসিকে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে নেওয়া মেসির নিচু শটটি জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা ভুল দিকে পজিশন নেওয়ার কারণে সরাসরি জালে জড়ায়। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য এক রেকর্ডও গড়লেন এই ফুটবল জাদুকর।