বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভিনার সঙ্গে হারের শঙ্কায় ছিল কানাডা। শেষদিকের গোলে কোনোমতে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সহ আয়োজকেরা। সে ম্যাচের পর ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নিল না কানাডিয়ানরা।
‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে উঠেছিল কানাডা। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকদের ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে দলটি। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে কানাডার এই জয়ের নায়ক জোনাথন ডেভিড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা কানাডার প্রথম জয়। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচ খেললেও একবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। অবশেষে তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডা; ঐতিহাসিক জয়টা গোল উৎসব করে স্মরণীয় করে রাখল কানাডা।
এই জয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল কানাডা। ২ ম্যাচে একটি করে জয় এবং ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। নকআউটে খেলার সম্ভাবনা জোরালো হলো কানাডার। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে অবস্থান করছে সুইজারল্যান্ড। কানাডার মতো এদিন সুইসরাও আসরের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে। বসনিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। সমান ১ পয়েন্ট নিয়ে বসনিয়া ও কাতার তিন ও চার নম্বরে আছে।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কানাডার সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি কাতার। ২২ শতাংশ বল দখলে রেখে তাদের নেওয়া ২ শটের একটিও প্রতিপক্ষের পোস্ট বরাবর ছিল না। বিপরীতে কানাডার নেওয়া ৩১ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল। এর মধ্যে ছয়বার গোল উদযাপন করেছে তারা।
গোল উৎসবের পাশাপাশি লাল কার্ডের কারণেও ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিন অনেকটা সময় ৯ জন নিয়ে খেলেছে কাতার। ৩৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলটির লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদ। ততক্ষণে ২-০ গোলে এগিয়ে কানাডা। ১৬ মিনিটের লারিনের পর ২৯ মিনিটে জালের দেখা পান ডেভিড। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
এই ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি কাতার। উল্টো বিরতি থেকে ফেরার ৮ মিনিটের মাথায় কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে কড়া ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের আসিম মাদিবো। পা ভেঙে যাওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন কোনে। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও ৩ গোল হজম করে কাতার। ৬৪ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান নাথান সালিবা। ৭৫ মিনিটে মোহামেদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল করেন। যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড।