যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা চলছে প্রায় এক মাস ধরে। ইরানের নারী ফুটবলাররা তখন এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যস্ত। যুদ্ধাবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ও পেয়েছিলেন ফুটবলাররা। অবশেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন তাঁরা।
ইরানের নারী ফুটবল দলের দুই সদস্য এখনো অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন। অন্যান্যরা মালয়েশিয়া, ওমান এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে সড়কপথে গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে ইরানে ফিরেছেন গতকাল। খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষ চাপ প্রয়োগ করেছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফুটবলারদের অভিভাবকদের তলবও করা হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, ফুটবলের দেশত্যাগে প্ররোচিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানের’ গতকালের প্রতিবেদনে এমনটাই জানা গেছে।
দেশে ফেরা ইরানের নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুটবলারদের বরণ করে নিতে তুরস্ক-ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অসংখ্য মানুষ হাজির হয়েছিলেন। ইরান সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘এই ফুটবলাররা আমাদের দেশের সন্তান। ইরানের জনগণ তাদের বরণ করছেন। তারা কোনো ভয়ভীতির সামনে আত্মসমর্পণ করেনি।’
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় ইরান। ‘এ’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। তিন ম্যাচের তিনটিতে হেরে যাওয়া ইরান হজম করেছে ৯ গোল। তবে কোনো গোল তারা দিতে পারেনি।
৮ মার্চ ফিলিপাইনের কাছে হেরে ইরানের এবারের নারী এশিয়ান কাপে পথচলা থেমে যায়। কিন্তু যুদ্ধাবস্থার মধ্যে দেশে ফিরবেন কী করে? তখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী ইরানিরা ফুটবলারদের সেখানেই (অস্ট্রেলিয়া) আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ইরানের ফুটবলারদের আশ্রয়ের অনুরোধ করেছিলেন। পরে সাত নারী ফুটবলার আশ্রয় নিলেও পাঁচজনই দেশে ফিরেছেন।
দেশে ফেরা ইরানের নারী ফুটবলারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ। তিনি গতকাল বলেছেন, ‘আমরা সবাই এখানে তাদের অভিনন্দন জানাতে একত্রিত হয়েছি। নারী ফুটবলাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের ছেলেদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ইরানের তিন ম্যাচের দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানি বেশি থাকায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক মেক্সিকোতে খেলতে চাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিচ্ছে।