নেইমারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন কি পাবেন না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কম ছিল না। শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ডকে নিয়ে দেখা দিয়েছে আরেক দুশ্চিন্তা।
ব্রাজিলের স্থানীয় সময় গত রাতে নেইমারের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তোসের মেডিক্যাল বিভাগের প্রধান রদ্রিগো জোগাইব। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিই’কে তিনি বলেন, ‘নেইমারের মাংসপেশিতে সামান্য চোট রয়েছে। সেখানে ফোলা রয়েছে। তবে তাঁর পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম যথাযথভাবে এগোচ্ছে।’
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সান্তোসের দুটি ম্যাচ রয়েছে। পরশু ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’তে গ্রেমিওর বিপক্ষে খেলবে সান্তোস। আর কনমেবল সাডামেরিকানার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২৭ মে সান্তোসের প্রতিপক্ষ দেপোর্তিভো কুয়েঙ্কা। জোগাইব অবশ্য স্পষ্ট করে বলেননি কত দিনের জন্য তিনি ছিটকে যাচ্ছেন। তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির আগে নেইমারকে দল পাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সান্তোসের মেডিক্যাল বিভাগের প্রধান।
নেইমার সবশেষ চোটে পড়েছেন রোববার ঘরের মাঠে কুরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে। সেদিন ৬৪ মিনিটের সময় মাংসপেশির সমস্যার কারণে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ঠিকই। তবে তিনি বিষয়টি না বুঝে মাঠে ঢুকে তর্কে জড়িয়েছিলেন। সেই ম্যাচে কুরিতিবার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল সান্তোস। আজ ভোরে সান্তোসের ঘরের মাঠে কনমেবল সাডামেরিকানাতে তিনি খেলতে পারেননি। তাঁর দলও জেতেনি। ২-২ গোলে ড্র হয়েছে সান লরেনৎসো-সান্তোস।
২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের কোচ হওয়ার পর আনচেলত্তি দীর্ঘ এক বছরে যখন ডাকেননি নেইমারকে, তখন নেইমারের বিশ্বকাপ দলে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, চোটের সঙ্গে নেইমারের যুদ্ধটা নিত্যনৈমিত্তিক আর আনচেলত্তি চান পূর্ণ ফিট খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত নেইমার ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন এবং ডাক পাওয়ার পর কেঁদেও দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সবশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন নেইমার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর ফেরা হতে পারে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমার ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৯ গোলে। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নেইমারের পরেই পেলে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পেলে করেন ৭৭ গোল।