আর্জেন্টিনা না ইতালি—কোন দল বেছে নিবেন মার্কোস সেনেসি! সময়টা ২০২২ সাল, ফিনালিসিমায় মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি দুজনই দলে চাইছিলেন সেনেসিকে। তখন এই ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্পের দরজা তার জন্য সহজে খুলছিল না।
দলে ডাক পেলেও নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলতে পারছিলেন না সেনেসি। দলের কাছাকাছি থাকলেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ২৬ জনের স্কোয়াডে সুযোগ হয়নি। কিন্তু নিয়তির খেলায় লিওনার্দো বালের্দির চোট আকাশী-নীলদের ড্রেসিংরুমের দরজা তাঁর জন্য খুলে দিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে নিশ্চয়ই তাঁর বছর চারেক আগে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে বাহবা দেওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে। ইতালি যে চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের নামটা লেখাতেই পারেনি।
আর্জেন্টিনাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনেসি বলেন, ’আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন সবাই দেখে। ইতালিতে না গিয়ে নিজের দেশের জার্সি পরার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এটা ছিল আমার স্বপ্নপূরণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বেছে নিয়ে জানতাম কীসের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি আমি। আমরা সবাই জানি এই দল কী কী অর্জন করেছে এবং কত ভালো খেলছে। এখানে জায়গা করে নেওয়া কঠিন, কারণ আমার সতীর্থরা অসাধারণ পারফর্ম করছে।’ ইতালিতে না যাওয়া নিয়ে পরবর্তীতে সেনেসি জানান, ’তিনি (মানচিনি) নতুন একটি দল গড়তে চান এবং আমাকে সেই প্রকল্পের অংশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছিলেন।’
সেনেসি সম্প্রতি বোর্নমাউথে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে টটেনহ্যামে যোগ দিয়েছেন। এর আগে নেদারল্যান্ডসের ফেইয়েনুর্ডে তিনি ১১৬টি ম্যাচ খেলে ৯টি গোল করেন। তবে তার সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। ফেইয়েনুর্ডে থাকাকালীন তিনি নিজের অসাধারণ কারিগরি দক্ষতার পরিচয় দেন, যা তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা এনে দিতে সাহায্য করেছে।
২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ইউরোপে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম সেরা। তার দল বোর্নমাউথ সবশেষ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে এবং ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেই সাফল্যে দলের অন্যতম প্রধান ভরসা এবং সেরা পারফরমারদের একজন ছিলেন সেনেসি। চার মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে তিনি ১২৯টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিপক্ষের জালে ছয়বার বল পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।
টটেনহ্যামে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তার আগে জীবনের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এসেছে—আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলা। সেই দেশের জার্সিতেই, যেখানে তার জন্ম এবং যাকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিতে যিনি দুবার ভাবেননি।