নতুন কত কিছুই তো দেখা যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। প্রথমবার তিন দেশ মিলিয়ে হচ্ছে বিশ্বকাপ। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও উন্নত ব্যবস্থা দেখা যাবে এবারের বিশ্বকাপে। অফসাইড যাচাই করতে গিয়ে রেফারিদের কষ্ট লাঘব করতে আসছে নতুন প্রযুক্তি।
অফসাইড যাচাইয়ে নতুন প্রযুক্তির ব্যাপারে গতকাল রাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (ভিএআর) জন্য ফিফা এবার উন্নত আধা স্বয়ংক্রিয় (সেমি-অটোমেটেড) অফসাইড প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে। এতে দ্রুত নেওয়া যাবে অফসাইডের সিদ্ধান্ত। সাধারণত অফসাইডের কিছুক্ষণ পর অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইনসম্যান। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নতুন এক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে লাইনসম্যানের খুব একটা দেরি হবে না।
সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি চালু হওয়ায় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যাবে সহকারী রেফারির কাছে। কোনো ফুটবলার যদি ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকেন, সেটা রিয়েল-টাইমে অডিও অ্যালার্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন সহকারী রেফারিরা। তবে পতাকা কখন তুলতে হবে, খেলা থামাতে হবে—এ ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রেফারিদের হাতেই থাকবে। সন্দেহ থাকলে রেফারি নাও পতাকা তুলতে পারেন।
যেকোনো ধরনের ভুল এড়াতে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিতে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে প্রযুক্তিরও তো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। গাঘেঁষা অফসাইডগুলো ধরতে পারবে না নতুন এই প্রযুক্তি। আর ফুটবলাররা যদি মাঠে পড়ে থাকেন কিংবা কয়েকজন খুব কাছাকাছি থাকেন, সেটাও কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন প্রযুক্তি শুধু অবস্থানের ওপর অফসাইড বের করতে পারবে। যত যা-ই হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রেফারিই।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। ২২ ও ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আকাশী-নীলরা।