কানাডায় প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় টরন্টোতে ঘানার হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না থমাস পার্টেইর। আর্সেনালের সাবেক ও বর্তমানে ভিয়ারিয়ালের এই মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ থাকায় কানাডা সরকার তাঁকে ভিসা দেয়নি। আগামী ১৭ জুন বুধবার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ঘানা। কিন্তু এই ম্যাচে দলের অন্যতম তারকা ও সহঅধিনায়ককে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে আফ্রিকান দলটিকে।
অবশ্য টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে পার্টেইর খেলতে কোনো বাধা নেই। পানামার বিপক্ষে ম্যাচের পর ২৩ জুন বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ঘানা। এরপর ২৭ জুন ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হতে যাওয়া এই দুটি ম্যাচেই দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পর ৪ জুন সতীর্থদের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান পার্টেই। বর্তমানে ঘানা দল রোড আইল্যান্ডে তাদের অনুশীলন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।
পার্টেইর কানাডায় প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা স্পোর্টস মিডিয়া ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘ফিফা নিশ্চিত করছে যে খেলোয়াড় থমাস পার্টেই আগামী ১৭ জুন, বুধবার পানামার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থিত ঘানার দলীয় ক্যাম্প থেকে কানাডায় ভ্রমণ করতে পারবেন না, কারণ কানাডা সরকার তাঁর ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।’ ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আয়োজক দেশগুলোর অভিবাসন প্রক্রিয়া বা ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। পূর্ববর্তী ফিফা ইভেন্টগুলোর মতোই, আয়োজক সরকারই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে যে কে ভিসা পাবেন এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
যুক্তরাজ্যে সাতটি ধর্ষণ ও একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পার্টেই। অবশ্য শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই ফুটবলার। কানাডার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নাও হতে পারে।
পার্টেইর বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও এবং তিনি বিচারাধীন থাকলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর ভিসা আবেদন বাতিল করেছে কানাডা সরকার। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, জাতীয়তা বা টুর্নামেন্টে কার কী ভূমিকা, তা বিবেচনা না করে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। কোনো ব্যক্তি দেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হতে পারেন মনে হলে কর্মকর্তারা তাঁকে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করতে পারেন।
গত বছরের জুনে আর্সেনালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে যোগ দেন পার্টেই। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমেও আর্সেনালের হয়ে নিয়মিত মাঠে নামেন এই মিডফিল্ডার। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে পার্টেইর এই মামলার বিচারকাজ চলার কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের নভেম্বরে বিচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে যেতে পারে। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিকল্পনার কথা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানাতে বাধ্য পার্টেই। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রথম তদন্ত শুরু করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে চতুর্থ এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও নতুন মামলা দায়ের করা হয়।