আর মাত্র ছয় মাস। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশও কেপে উঠবে বিশ্বকাপ জ্বরে। ভাগ হয়ে যাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়। এর মধ্যেও সব ভক্তের মনে একটি সুপ্ত বাসনা থাকে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার। ফিফাও চাইছে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে তোলার। শুনলে বিস্মিত হলেও একথা বলেছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই।
গত পরশু বাংলাদেশে এসেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি না পারলেও আগামী প্রজন্ম ঠিকই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নেবে বলে বিশ্বাস আছে তাঁর। জামালের মতো একই আশায় ক্ষণ গুনছেন ফিফা সভাপতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ইনফান্তিনোর কাছে তাঁর এক অনুসারী প্রশ্ন রাখেন বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপ খেলবে। উত্তরে আজ এক পোস্টে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশগুলো যাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, সেটাই ফিফার লক্ষ্য। আগামী বছরের বিশ্বকাপে আমাদের বেশ কয়েকটি নবাগত দল রয়েছে যারা আগে কখনো অংশ নেয়নি। আমাদের এখানে আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও রয়েছে। আমাদের এখানে উজবেকিস্তান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে এবং জর্ডান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে।’
ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবলের দারুণ এক দেশ, যেখানে ফুটবল বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তাদের অবশ্যই একটি সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ফুটবল ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেড়ে উঠতে ফিফা প্রচুর বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে এবং আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি।’
বিশ্বকাপ তো দূরের কথা বাংলাদেশ এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চেই যেতে পেরেছে একবার। তাও ১৯৮০ সালে। এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই নিয়েও প্রত্যাশার কমতি ছিল না। হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও সেই আশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে স্বপ্নটা দমে যায়নি।
আগামী ১১ জুন থেকে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ আসর। আগামীতে দল বাড়ানো প্রস্তাব এসেছে ফিফা। তেমনটা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নও খুব একটা দূরের পথ মনে হবে না।