যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে ইতিমধ্যেই ঘাঁটি গেড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। চলতি বিশ্বকাপজুড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের মূল কেন্দ্র এই শহরটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলবিসেলেস্তেদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে খেলোয়াড়দের পৌঁছানোর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলের কানসাসে পা রাখার সেই মুহূর্তগুলো তো নজর কেড়েছেই, তবে এর চেয়েও বেশি আলোচনা চলছে একটি বিশেষ এবং কৌতুহলোদ্দীপক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে।
কানসাসে পৌঁছানোর পর এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির রুম নম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মেসি থাকবেন ২০২ নম্বর রুমে। অথচ গত কাতার বিশ্বকাপে, যেখানে আর্জেন্টিনা তাদের তৃতীয় ট্রফি জয়ের মিশনে নেমেছিল, সেখানে মেসির রুম নম্বর ছিল ২০১। সংখ্যাতত্ত্ব কিংবা কুসংস্কারে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই এই রুম নম্বর নিয়ে হিসাব মেলাতে শুরু করেছেন। গতবার রুমের অঙ্কগুলোর যোগফল ছিল ৩ (২+১=৩), আর এবার ২০২ নম্বরের যোগফল দাঁড়াচ্ছে ৪ (২+২=৪)। আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশা করছেন, ১৯৭৮, ১৯৮৬ আর ২০২২ সালের পর এবার এই ‘৪’ সংখ্যার হাত ধরেই আসবে আলবিসেলেস্তেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি!
মেসির ঠিক পাশের ২০৩ নম্বর রুমটিতে থাকছেন তাঁর মাঠ ও মাঠের বাইরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুই সেনাপতি—রদ্রিগো ডি পল ও নিকোলাস ওতামেন্দি। অধিনায়ক যাতে যেকোনো প্রয়োজনে বা ফুটবলীয় আড্ডায় এই তাঁদের সবসময় পাশে পান, সে জন্যই তাঁদের কক্ষটি রাখা হয়েছে মেসির একেবারে গা ঘেঁষে।
কানসাসে মেসিদের এই বেস ক্যাম্পের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মিসৌরি নদীর তীরে অবস্থিত ‘অরিজিন হোটেল কানসাস সিটি’ নামের এই আধুনিক কমপ্লেক্সটি ২০২৪ সালে চালু হয়েছে। নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশের এই হোটেলটিতে সুযোগ-সুবিধার কোনো কমতি নেই। কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর দলের বিশ্বকাপের সেরা প্রস্তুতির জন্য ঠিক যেমন পরিবেশ চেয়েছিলেন, এটি হুবহু তেমনই।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে পুরো হোটেলটিকে সাজানো হয়েছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা রঙে। দেয়ালজুড়ে রয়েছে খেলোয়াড়দের ছবি আর নানা অনুপ্রেরণামূলক বার্তা। ফুটবলারদের শতভাগ মানসিক স্বস্তি ও বিশ্রামের জন্য এখানে বিশেষ কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অবসরে আড্ডা ও বিনোদনের জন্য যেমন সুপ্রশস্ত কমন এরিয়া এবং ইনডোর গেমসের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি স্কোয়াডের জন্য থাকছে একটি বিশাল ডাইনিং হল এবং খোলামেলা আউটডোর টেরেস। এ ছাড়া দীর্ঘ টুর্নামেন্টজুড়ে স্কোয়াডকে ফুরফুরে মেজাজে রাখতে প্রতিটি কক্ষে রাখা হয়েছে বিশেষায়িত বড় ও আরামদায়ক বিছানা।