জার্মানির বাজে সময়ের প্রহর যেন কাটছেই না। আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে হতাশ করল চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। ব্যর্থতার চোরাবালিতে আটকা পড়া দলটি এবার প্যারাগুয়ের কাছে হেরে সেরা ৩২ থেকে বিদায় নিয়েছে। এমন পারফরম্যান্সের পর আর নিজেদের প্রথম সারির দল বলে মনে করছেন না খোদ জার্মানির প্রধান কোচ হুলিয়ান নাগলসমান।
সবশেষ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইউরোপের দলটি। টানা দুই বিশ্বকাপ পর এবার নকআউটে জায়গা করে নিয়েছিল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু নিজেদের যাত্রা দীর্ঘ করতে পারল না। টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানি যেন প্রমাণ করল, শক্তি, জৌলুস, দাপট—সবকিছুই এখন তাদের জন্য কেবল অতীত ইতিহাস।
প্যারাগুয়ের কাছে হারের পর নাগেলসমান বলেন, ‘প্রথম ধাপেই যদি বিদায় নিতে হয়, তাহলে সেটা জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়। টানা তৃতীয়বার আমরা বিদায় নিলাম। তাই আমরা আর প্রথম সারির দল নই। আমি ভীষণ হতাশ।’
২০২৩ সাল থেকে জার্মানির দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাগেলসমান। তাঁর সঙ্গে দলটির চুক্তি আছে ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও জার্মানির ডাগআউটে থেকে যেতে চান এই কোচ।
এই প্রসঙ্গে নাগেলসমান বলেন, ‘জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) যদি আমাকে চায়, তাহলে আমি দায়িত্ব চালিয়ে যাব। আমি জানি অনেকেই চান আমি চলে যাই। কিন্তু ডিএফবি যদি আমাকে রাখতে চায়, তাহলে আমি অবশ্যই থাকতে চাই। আমার যুক্তিগুলো আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরব।’
বিশ্বকাপে জার্মানির ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিলেন নাগেলসমান, ‘আজ যদি জার্মানিতে কোনো জনমত জরিপ করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা খুব বেশি শোনা যাবে না। কারণ এই টুর্নামেন্টে আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। আমি এমন মানুষ নই, যে কঠিন সময়ে পালিয়ে যায়।’