ছবিটা এখন ফুটবল ইতিহাসের অংশ। একটি বাথটাবে ছয় মাসের এক শিশুকে আলতো করে ধরে আছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ফুটবলার। তখন কেউ জানত না, সেই তরুণ একদিন ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হবেন। আর কোলে থাকা শিশুটিও বড় হয়ে তাঁরই উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত হবে।
উনিশ বছর পর সেই দুজনই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির প্রতিপক্ষ স্পেনের লামিনে ইয়ামাল।
২০০৭ সালে স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত ও ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা হয়েছিল ছবিটি। বার্সেলোনার মূল দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে শিশুদের সঙ্গে ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে মেসির ভাগ্যে জোটে ছয় মাসের লামিনে ইয়ামাল। বাথটাবে শিশুটিকে গোসল করানোর সেই ছবিই পরে হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি।
ছবিটি আবার আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করে লেখেন, ‘দুই কিংবদন্তির শুরু।’
ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী হোয়ান মনফোর্ত। তাঁর ভাষায়, ছোট্ট ইয়ামাল মুহূর্তেই মেসির মন জয় করে নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘লামিনে খুব হাসিখুশি ছিল। দুটো হাসিতেই সে মেসিকে মুগ্ধ করে ফেলেছিল। ছবিটা তোলা সহজ ছিল না। তখন মেসি অনেক লাজুক ছিলেন। কিন্তু তিনি খুব পেশাদার ছিলেন, ধৈর্য ধরেছিলেন। শিশুকে কোলে নেওয়া তাঁর অভ্যাস ছিল না, তবু দারুণভাবে সামলেছিলেন।’
রোববারের ফাইনাল শুধু সেই ছবির দুই চরিত্রকে আবার মুখোমুখি করবে না, গড়তে পারে দুটি আলাদা রেকর্ডও। ফাইনালে খেলতে নামলে ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন মেসি। বর্তমানে এই রেকর্ড সুইডেনের গুনার গ্রেনের। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে তাঁর বয়স ছিল ৩৭ বছর ২৩৬ দিন। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড অবশ্য ইতালির গোলরক্ষক দিনো জফের, ১৯৮২ সালের ফাইনালে যার বয়স ছিল ৪০ বছর ১৩৩ দিন।
অন্যদিকে ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ফাইনালে খেললে ইয়ামাল হবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। তাঁর আগে ১৯ বছরের কম বয়সে ফাইনাল খেলেছেন শুধু ব্রাজিলের পেলে (১৭) এবং ইতালির জুসেপ্পে বের্গোমি (১৮)। দুজনই সেদিন বিশ্বকাপ জিতেছিলেন।
বার্সেলোনায় ইয়ামালকে অনেক দিন ধরেই মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটিও এখন তাঁর গায়ে। প্রায় দুই দশক আগে যে ছবিতে একজন ছিলেন শিশুকে কোলে নেওয়া তরুণ, আর অন্যজন সেই শিশু—রোববার সেই ছবির দুই মানুষই দাঁড়াবেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, তবে এবার প্রতিপক্ষ হয়ে।