বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৪০ দিন। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ইরান—বিশ্বকাপে তারা খেলবে কি না। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই বলে আসছেন, বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান। কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে ইরানের ফুটবল কর্মকর্তাদের যে অভিজ্ঞতা, তাতে বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক কিছুই বিবেচনার আছে বলে মনে করছে ইরান।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা। জুরিখে ফিফার কার্যালয়ে অচিরেই হবে এই বৈঠক। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে বিব্রতকর এক পরিস্থিতিতেই তাঁদের পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা। ইরানের ফুটবলপ্রধান মেহেদি তাজ শুক্রবার দেশে ফিরে বলেন, ‘আমাদের আলোচনা করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে।’ তাজ কানাডায় গেলেও ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে উপস্থিত হতে পারেননি। বৃহস্পতিবার হওয়া ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্যদেশের মধ্যে কেবল ইরানই অনুপস্থিত ছিল।
কেন ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেননি—দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাই জানিয়েছেন মেহেদি তাজ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুল থেকে টরন্টোয় পৌঁছানোর পর, ‘কানাডায় তারা আমাদের জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনারা কি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য?’ আমরা তাদের বলেছিলাম, “ইরানের ৯০ কোটি মানুষই আইআরজিসি”।’
প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মেহেদি তাজ বলেন, ‘আলোচনার পর তারা বলেছিল “সিদ্ধান্ত আপনাদের”, তখন আমরা সবাই মিলে ইস্তাম্বুল ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তারা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করেনি, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমনই ছিল।’
ফিফা কংগ্রেসে ইরানের অনুপস্থিতির পরও ইনফান্তিনো ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী। ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং অবশ্যই তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে।’
কিন্তু ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়েই যে ভোগান্তি পোহাতে হলো, তাতে ইরানের ভয়, বিশ্বকাপে না তাদের আরও ভোগান্তি পোহাতে হয়! দেশে ফিরেই তাজ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আলোচনা করার মতো অনেক বিষয় আছে আমাদের।’ সেসব বিষয় নিয়েই ফিফার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানি প্রতিনিধিদলকে চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে সদর দপ্তরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওই বৈঠকের পরই বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।