বিশ্বকাপ সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে সোমবার প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে পৌঁছান লিওনেল মেসিরা। স্পোর্টিং কানসাস সিটির এই আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই বিশ্বকাপ চলাকালে নিজেদের ঘাঁটি গেড়েছে আর্জেন্টিনা। গরম আবহাওয়ার মধ্যেও অনুশীলনে কোনো ছেদ পড়েনি। প্রথমে জিমে ফিটনেসভিত্তিক কার্যক্রম, পরে মাঠে বল নিয়ে হালকা অনুশীলন করেন খেলোয়াড়রা। বিশ্বকাপের আগে পূর্ণ দল নিয়ে এটাই ছিল প্রথম সেশন। শুরু থেকেই বাড়তি সতর্ক ছিল কোচিং স্টাফ। বিশেষ করে যাঁরা সম্প্রতি চোট কাটিয়ে ফিরছেন বা এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তাঁদের নিয়ে বেশ সতর্ক স্কালোনি।
২৬ সদস্যের ঘোষিত দলের সবাই রোববার ক্যাম্পে যোগ দিলেও প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে কয়েকজনকে পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। সর্বশেষ চোটের তালিকায় যোগ দিয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ইউনিভার্সিদাদ কাতোলিকার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। তবে আর্জেন্টাইন শিবির আশাবাদী, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন পারেদেস।
চোট নিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও। ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে বাঁ হাতের একটি আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর ব্যান্ডেজ নিয়েই কানসাসে পৌঁছেছেন তিনি। এ ছাড়া নিকো পাস এখনো বাঁ হাঁটুর অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন। হুলিয়ান আলভারেসও গোড়ালির চোট থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর্জেন্টাইন দল বিশ্বাস করে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি শতভাগ ফিট হয়ে উঠবেন।
চোটের কারণে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন নিকোলাস গনসালেস, গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনাও। এ কারণে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কয়েকজন বিকল্প খেলোয়াড়কে প্রস্তুত রেখেছে কোচিং স্টাফ। সেই তালিকায় আছেন সান্তিয়াগো বেলত্রান, আগুস্তিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস দোমিঙ্গেস, মাতিয়াস সুলে, মাক্সিমো পেরোনে ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।
বিশ্বকাপজুড়ে কানসাস সিটিকেই নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে আর্জেন্টিনা। মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দলটি। ৭ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে। এরপর ১০ জুন আলাবামার অবার্নে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
প্রীতি ম্যাচ দুটি শেষ করে আবার কানসাসে ফিরবে আর্জেন্টিনা। সেখানেই চলবে বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতি। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দলটির শিরোপা রক্ষার অভিযান। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্লিংটনে এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের বাকি ম্যাচ খেলবে মেসিরা।