৬০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই কোচ হিসেবে টমাস টুখেলকে নিয়োগ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে একের পর এক সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গিয়ে ব্যর্থ হওয়া দলটির জন্য টুখেলকেই মনে করা হয়েছিল সমাধান। কিন্তু জার্মান কোচের অধীনে এবারও ইংল্যান্ডের ব্যর্থতার সেই পুরোনো গল্প।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ৫৫ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপরই আক্রমণ ছেড়ে রক্ষণে গুটিয়ে যায় দলটি। শেষ দিকে এনসো ফার্নান্দেস ও যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া, ২০২০ ইউরোর ফাইনালে ইতালি এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা—তিনবারই আগে গোল করে এগিয়ে থেকেও জিততে ব্যর্থ ইংল্যান্ড। ম্যাচ হারায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে টুখেলের কৌশল নিয়ে। এগিয়ে যাওয়ার পর কেন তিনি পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশলে গেলেন, সেটাও অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞের বোধগম্য হচ্ছে না। ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারটাই আমাদের প্রাপ্য ছিল। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে তিনজন ডিফেন্ডার নামানো কী বার্তা দেয়?’
সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও সাউথগেট যুগের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন, ‘বড় ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণে নেমে যাওয়ার জন্য সাউথগেট সমালোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখানে তো কিছুই বদলায়নি।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমও টুখেলকে ছেড়ে কথা বলেনি। দ্য সান শিরোনাম করেছে ‘লস্ট হিজ টাচ?’, ডেইলি মেইল লিখেছে, যে কৌশলগত দুর্বলতা কাটানোর জন্য টুখেলকে আনা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তিনিও একই ভুল করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘এটি ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে জয়ের সংকল্প, আর টুখেল দেখিয়েছেন ভীরু মানসিকতা।’ দ্য টেলিগ্রাফ জাতীয় দলের সাবেক কোচের উদাহরণ টেনে লিখেছে—‘সাউথগেটও কখনো এমন রক্ষণাত্মক হয়ে যাননি, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টুখেল যেমনটি হলেন।’ আরেক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে অগ্রহণযোগ্য সব পরিবর্তন এনে খেলোয়াড়দের ডুবিয়েছেন টমাস টুখেল।’ দ্য টাইমসের মার্টিন স্যামুয়েলের মন্তব্য, ‘নতুন কোচ, কিন্তু একই হতাশাজনক পরিণতি।’
উপহাসের বিষয়, গত মার্চ মাসে টুখেল বলেছিলেন, ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ড খেলেছিল হারার ভয়ে, জেতার ক্ষুধা নিয়ে নয়। সেমিফাইনালের পর সেই মন্তব্য যেন তাঁর বিরুদ্ধে ফিরে এসেছে।
তবে নিজের সিদ্ধান্তের দায় এড়াননি টুখেল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হারলে সমালোচনা হবেই। সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি, তাই দায়ও আমার।’
অধিনায়ক হ্যারি কেইন অবশ্য কোচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব তাড়াতাড়ি ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এখন কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আমরা জিতি-হারি একসঙ্গেই।’