বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপের। তবে উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরেই তৈরি হয়েছে বড় দুঃসংবাদ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, উদ্বোধনী ম্যাচটি ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কবলে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ঝুঁকিও রয়েছে। জার্মান প্রেস এজেন্সির (ডিপিএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইতোমধ্যেই মেক্সিকো সিটির সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুরক্ষা সচিবালয় রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মেক্সিকো সিটিতে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও; বেশ কিছু মেট্রো লাইনের চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি স্টেশনগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এবারের বর্ধিত আসরে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া এবার পুরো টুর্নামেন্টেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এর আগে গত বছর জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপেও বজ্রপাতের ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচ সময়মতো শুরু করা যায়নি।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সহস্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মূল ম্যাচ শুরুর আগে থাকছে এক ঘণ্টার জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা।
তবে কেবল বৈরী আবহাওয়া নয়, আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে স্থানীয় বিক্ষোভের শঙ্কাও। নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে টুর্নামেন্ট চলাকালেই মেক্সিকোর শিক্ষক, ট্রাকচালক ও কৃষকেরা বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মেক্সিকো সিটি ছাড়াও দেশটির গুয়াদালাহারা এবং মন্তেরে শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য এই দুই শহরের স্টেডিয়ামগুলো মূল শহরের ঠিক বাইরে, পার্শ্ববর্তী পৌর এলাকায় অবস্থিত। সব মিলিয়ে আবহাওয়া আর মাঠের বাইরের আন্দোলন সামলে মাঠের ফুটবল কতটা নির্বিঘ্নে মাঠে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।