মেয়েদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১৫৩ নম্বরে। উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে আগে কখনো খেলেনি। বিশ্বকাপ তো ছিল আরও দূরের স্বপ্ন। সেই মালাউই এখন আফ্রিকার সেরা চার দলের একটি, আর প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে।
মরক্কোর রাবাতে রোববার উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই ইতিহাস গড়েছে মালাউই। ম্যাচে অবশ্য শুরুটা হয়েছিল উল্টোভাবে। মাত্র সাত মিনিটে পিছিয়ে পড়ে তারা। পাঁচ মিনিট পর গোল পরিশোধ। এরপর ৭৯ মিনিটি জয়সূচক গোল। আর তাতেই ইতিহাস। প্রথমবারের মতো খেলতে এসে তরতরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া, সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে ২০২৭ ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় মেয়েদের বিশ্বকাপে খেলা।
শক্তিশালী ঘানার বিপক্ষে জয়টি ভাগ্যের জোরে পাওয়া কোনো অর্জন ছিল না। বরং শুরু থেকেই তারা যে ধারাবাহিক খেলছে, সেটিরই ফল ছিল এটি। প্রতিযোগিতায় নিজেদের শুরুর ম্যাচেই রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় মালাউই। এরপর মিসরকে হারায় ৩-১ গোলে। জাম্বিয়ার কাছে হারলেও গ্রুপের শীর্ষে থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। সেখানে তিনবারের রানার্সআপ ঘানার বিপক্ষে জয়। অর্থাৎ এক টুর্নামেন্টেই মালাউই হারিয়েছে আফ্রিকার প্রতিষ্ঠিত দুই শক্তি নাইজেরিয়া ও ঘানাকে।
সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে ক্যামেরুন। চার সেমিফাইনালিস্টই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করায় এবার মেয়েদের মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্ট পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন—চার দলের কেউই আগে এই শিরোপা জেতেনি।
মালাউইয়ের গল্পটা তাই শুধু বিশ্বকাপে ওঠার নয়। ২০০২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা একটি দল, যে কখনো উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মূল আসরেই খেলেনি, তারাই এখন বিশ্বমঞ্চের যাত্রী।
আগামী বছর জুন-জুলাইয়ে ব্রাজিলে বসবে নারী বিশ্বকাপের দশম আসর। সেখানে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে মালাউইকে, ১৫৩ নম্বর দল হয়েও যারা প্রমাণ করেছে ইতিহাস লেখার জন্য র্যাঙ্কিংয়ের অনুমতি লাগে না!