লং অনে বলটা ঠেলে সিঙ্গেল নিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের ডাগআউট থেকে তখন করতালি। উপলক্ষ শান্তর সেঞ্চুরি। তবে এবার আর তিনি শূন্যে উড়ে লাফ দেননি। হেলমেলটা খুলে আকাশের দিকে তাকিয়েছেন। তাওহীদ হৃদয়ও অভিনন্দন জানিয়েছেন শান্তকে। তিন অঙ্ক ছুঁয়ে শান্ত এরপর পিচে সিজদা দিয়েছেন।
ফর্মে যে নাজমুল হোসেন শান্ত একেবারে ছিলেন না, সেটা বলার উপায় নেই। এক অঙ্কের ঘরে যেমন আউট হয়েছেন, তেমনি দলের জয়ে ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও খেলেছেন। তবে দারুণ শুরু করেও বেশির ভাগ সময় ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তাতে ফুরোল তাঁর ৭৭১ দিনের অপেক্ষা।
ওয়ানডেতে সবশেষ শান্ত সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন এই চট্টগ্রামেই। ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৯ বলে ১২২ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জিতিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার তখন ছিলেন অধিনায়ক। ২৫ মাস পর আজ শান্ত সেঞ্চুরি পেয়েছেন খেলোয়াড় হিসেবে। ওয়ানডেতে এটা তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। শান্তর তিন অঙ্ক ছোঁয়ার দিনে সাবলীলভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪১ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৮ রান করেছে স্বাগতিকেরা। শান্ত ১০০ রানে অপরাজিত। তাওহীদ হৃদয় ৮ রানে ব্যাটিং করছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শান্ত আজ যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২.১ ওভারে ২ উইকেটে ৯ রান। দুই ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিমকে (১) ফিরিয়েছেন উইলিয়াম ও’রুর্ক। সৌম্য সরকারের সঙ্গে শান্তর জুটিটা যখন জমে উঠছিল, তখন ফের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নবম ওভারের তৃতীয় বলে ও’রুর্কের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন সৌম্য (১৮)।
সাইফ,তামিম, সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৮.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২ রান। চাপ সামলে লিটন দাসের সঙ্গে ধীরস্থিরভাবে এগোতে শান্ত। ১২তম ওয়ানডে ফিফটি তুলতে শান্তর লেগেছে ৭০ বল। ফিফটির পর বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার হাত খুলে খেলেছেন। স্ট্রাইক রোটেটের পাশাপাশি বাজে বলগুলোকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন তিনি। ১১৪ বলে তুলে নিয়েছেন চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি।