বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলা নতুন কিছু নয়। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—আইসিসির এ দুটি ইভেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সিরিজের কথা বললে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যেতে হবে আরও পেছনে।
২০০৮ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে। ওশেনিয়া মহাদেশে বাংলাদেশের ১৮ বছরের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে ২০২৬ সালে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে আগামী বছর বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সূচি এখনো প্রকাশ না করা হলেও সিরিজ আয়োজন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ। সিএ’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘এটা আমরা করতে পারব। দেশের বিভিন্ন শহরে আমরা যে ক্রিকেট খেলতে পারি, সেই নিশ্চয়তা দিতে চাচ্ছি। তাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের তারকা ক্রিকেটারদের দেখতে পারবে।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের একটি ডারউইনের ম্যারারা স্টেডিয়ামে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভেন্যুতেই কদিন আগে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি। তাতে এই ভেন্যুর ১৭ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দারুণভাবে আয়োজন করা হয়েছে। ডারউইনের ম্যারারা স্টেডিয়াম পছন্দ হয়েছে গ্রিনবার্গেরও। সিএ’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আমি চীফ মিনিস্টারের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছি। ক্রিকেটের জন্য তার অনেক আগ্রহ রয়েছে। আমরাও অনেক ম্যাচ খেলতে চাচ্ছি। সেখানকার কন্ডিশন অনেক ভালো। আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের মার্চে। কিন্তু তখন টেস্টের ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) হবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্ট। এ কারণে বাংলাদেশ সিরিজের সময় এগিয়ে ২০২৬ সালে নিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ কখন হবে, সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। আগামী বছরের জুলাই-আগস্টে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে এক টেস্ট ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। যদিও আফগানিস্তানের সঙ্গে সিএ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ স্থগিত করেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সবশেষ মুখোমুখি হয়েছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ডাকওয়ার্থ লুইস এন্ড স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে ২৮ রানে হারিয়েছিল অজিরা। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ২০০৮ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার তিনটি ওয়ানডেই হয়েছিল ডারউইনে। বাংলাদেশকে ১৭ বছর আগের সেই ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল অজিরা।
ডারউইনে কদিন আগে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হলেও এই মাঠে টেস্ট সবশেষ কবে হয়েছে, সেটা জানতে হলে ঘাটতে হবে পরিসংখ্যান। ২০০৪ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্ট হয়েছিল ডারউইনে। এই ভেন্যুতে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণের ম্যাচই হয়েছে সর্বসাকল্যে দুটি। অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্টের আগে ডারউইনে ২০০৩ সালের জুলাইয়ে হয়েছিল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট। ২২ বছর আগে সেই টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস এবং ১৩২ রানে হারিয়েছিল অজিরা।
আরও পড়ুন: