হোম > খেলা > ক্রিকেট

পাকিস্তানি পেসার বোঝালেন, ক্রিকেটে শেষ বলে কিছু নেই

ক্রীড়া ডেস্ক    

শেষ ওভারে ৩ রান দিয়ে কিংসমেনকে ফাইনালে তোলার নায়ক হুনাইন শাহ। ছবি: ক্রিকইনফো

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চলছে রান উৎসব। হরহামেশাই ২০০ ’র ওপরে রান তাড়া করে জেতার ঘটনা ঘটছে। সেখানে শেষ ওভারে প্রতিপক্ষকে ৬ রান করতে না দেওয়াটা অতিমানবীয় কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু। তেমন এক ওভারই করলেন হায়দরাবাদ কিংসমেনের হুনাইন শাহ।

পিএসএলের দ্বিতীয় এলিমিনেটরে কিংসমেনের পুঁজি ছিল ১৮৬ রানের। লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দুই ওভারে ২৮ রান করতে হতো ইসলামাবাদকে। এমন সমীকরণে মোহাম্মদ আলীর করা ১৯ তম ওভারে ২২ রান নিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন ক্রিস গ্রিন এবং ফাহিম আশরাফ। গ্রিন ৬ বলে ২০ ও ফাহিম ৯ বলে ১৯ রান নিয়ে ক্রিজে ছিলেন।

তখন মনে হচ্ছিল, শেষ ওভারে ৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ইসলামাবাদের জন্য জয়টা কেবল সময়ের ব্যবধানে। গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাসও বলে দিচ্ছিল, ফাইনালের খুব কাছেই আছে প্রিয় দল। কিন্তু ক্রিকেটে যে শেষ বলে কিছু নেই আরও একবার সেটাই বোঝালেন হুনাইন।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন হুনাইন; সে ওভারে দেন মাত্র তিন রান। তুলে নেন ফাহিমের উইকেট। ২ রানের জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে পিএসএলের ফাইনালে পা রাখে নবাগত কিংসমেন। আলোচিত এই ওভারে চারটি ইয়র্কার করেন হুনাইন। তাতেই নাকাল ছিল আগের ওভারেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালানো গ্রিন-ফাহিমরা। শেষ বলে ইসলামাবাদের সামনে ৪ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। স্ট্রাইকে ছিলেন গ্রিন। হুনাইনের ইয়র্কার ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। লেগ বাই থেকে এক রান হলেও সেটা কিংসমেনের জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। এই ডেলিভারির পরই উচ্ছ্বাসে এক হাত উঁচু করে স্ট্রাইক প্রান্তের দিকে দৌড়ে যান হুনাইন। এরপর শূন্যে লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতে ঘুষি মারেন। ততক্ষণে ডাগআউট থেকে বের হয়ে এসে মাঠে উদযাপন শুরু করেছেন কিংসমেনের ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফরা। অন্যদিকে গ্যালারিতে বাধভাঙা উল্লাস।

শেষ ওভারে ইসলামাবাদকে আটকে দিলেও প্রথম তিন ওভার ভালো হয়নি হুনাইনের; প্রায় ১২ ইকোনমিতে দেন ৩৫ রান। নিজের কোটার শেষ ওভারে দারুণভাবেই ফিরলেন এই পেসার। তাঁর এই ফেরায় প্রথমবার পিএসএল খেলতে আসা কিংসমেনকে ফাইনালে নিয়েছে। এদিন ৪ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন হুনাইন। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। শেষ ওভারে চয়টি ইয়র্কারের পরিকল্পনায় সফল তিনি।

হুনাইন বলেন, ‘আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে চেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমরা যদি ফাহিমকে আউট করতে পারি, তাহলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আমার ফোকাস ছিল পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। শেষ ওভার করতে এসে আমি লাবুশেনকে (অধিনায়ক) বলেছিলাম—আমাদের কোনো সুযোগ নেই ভুল করার, আমি ছয়টা ইয়র্কারই করব। সেই পরিকল্পনাই অনুসরণ করেছি। খুব ভালো লাগছে, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এই টুর্নামেন্টে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় সামনে এসে ম্যাচ জিতিয়েছে, আর এটাই আমাদের সাফল্যের মূল কারণ।’

নজরকাড়া বোলিংয়ে কিংসমেনের অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেনের প্রশংসায় ভেসেছেন হুনাইন। লাবুশেন বলেন, ‘আমরা যা করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো শব্দ আমার নেই। আমরা নিশ্চিতভাবেই দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছি। মনে হচ্ছিল আমরা সহজেই জিতে যাব, তারপর হঠাৎই পরিস্থিতি বদলে গেল; এমন এক সময় এল, মনে হলো সব শেষ—ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। ঠিক তখনই হুনাইন এসে শেষ ওভারে মাত্র তিন রান দিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দিল, যেখানে বাইরে ছিল চারজন ফিল্ডার। আমরা আসলে কী করে ফেললাম, তা বোঝানোর ভাষা নেই। আমরা এখন এমন এক দলে পরিণত হয়েছি—এই কথা বলতে গিয়েই শরীরে কাঁটা দিচ্ছে।’

লাবুশেন আরও যোগ করেন, ‘হুনাইন আগে একটি ব্যয়বহুল ওভার করেছিল, কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম তার জন্য বড় মুহূর্তটা আসছে। মজার বিষয় হলো, বাইরে মাত্র চারজন ফিল্ডার থাকাটা আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছিল—সবাইকে সোজা লাইনে রেখে ছয়টা ইয়র্কার করার পরিকল্পনা। সত্যি বলতে, আর কী বলব বুঝতে পারছি না।’

সূর্যবংশীকে খেপিয়ে শাস্তি পেলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির শঙ্কা কেমন

বাংলাদেশের দুই ম্যাচ কোথায় দেখবেন

ক্যামেরাম্যানকে পাল্টা হুমকি দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার

এক সপ্তাহের মধ্যেই ডিপিএলের নিয়ম বদলাল বিসিবি

রানাদের ফাইনাল দেখতে বিশেষ অতিথিকে আফ্রিদির নিমন্ত্রণ

আইপিএলের বিতর্কিত ক্যাচ নিয়ে ক্রিকেটের আইন কী বলে

শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের একই দল

পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

ত্রুটিপূর্ণ গঠনতন্ত্রেই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি তামিমদের