বলছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে আইসিসি বাংলাদেশের কিছু সাংবাদিককে অ্যাক্রেডিটেশন দিতে থাকে। তবে বিশ্বকাপ কাভার করতে সাংবাদিকেরা কোনো জিও (সরকারি অনুমতি) পাবেন না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম।
এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক শর বেশি বাংলাদেশি সাংবাদিকের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের বিশ্বকাপ কাভারের অনুমতি দিতে থাকে আইসিসি। এ ব্যাপারে গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম বলেন, ‘যদি এটা (মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন) আইসিসি দিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। কোনো প্রকার জিও (সরকারি অনুমতি) ইস্যু করব না। নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলে আপনারা যেতে পারবেন।’
বিশ্বকাপ কাভার করতে গেলে সাংবাদিকেরা কি ভারতে নিরাপদ—মাহবুব উল আলমের কাছে গতকাল সংবাদমাধ্যমকর্মীরা এমন প্রশ্ন করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এখানে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। মাহবুব বলেন, ‘ক্রিকেটের ক্ষেত্রে হুমকিটা যেহেতু মোস্তাফিজ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিষয়টা সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করেছি। আর বাকি বিষয়টা প্রত্যেককে তো আলাদাভাবে দেবে না। আমাদের পক্ষ থেকে যদি কোনো অনুমতি নিতে হয়, তাহলে আমরা ব্যাপারটাকে সেটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখব। আমরা বিষয়টাকে ক্রিকেটের সঙ্গেই সম্পৃক্ত রাখব। অন্য বিষয়গুলোর সঙ্গে এটাকে মেলাব না।’
দেশের বাইরে টুর্নামেন্ট কাভার করতে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সাধারণত সরাসরি সরকারি অনুমতি (জিও) নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে ভিসা জটিলতা নিরসন ও দ্রুততার সঙ্গে ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহায়তা করে থাকে। বিসিবি দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও আয়োজক ক্রিকেট বোর্ডে যোগাযোগ করে। এমনকি ভিসা প্রাপ্তির কাজও বিসিবি করে দেয়। সর্বশেষ এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আরব আমিরাতের ভিসা বিসিবি নিজের দায়িত্বে ও খরচে করে দিয়েছিল বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম কর্মীদের জন্য। গত কয়েক বছর ভারতীয় ভিসা পেতেও বিসিবি সহায়তা করেছে। তবে এবার যেহেতু সরকারের অনুমতি নেই, বিসিবি আগের মতো হয়তো এবার সাংবাদিকদের ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না।