২০১৯ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০ দলের টুর্নামেন্ট হওয়ায় সমালোচনা কম হয়নি। আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়লেও টুর্নামেন্টের ফরম্যাট বদলে ফেলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। এমনকি ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও হবে ভিন্ন ফরম্যাটে।
১৪ দল নিয়ে হচ্ছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে সব শেষ ২০১১ ও ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাতটি করে দল নিয়ে দুই গ্রুপে ভাগ করা হলেও আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপটা হচ্ছে ভিন্নভাবে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে বিশ্বকাপের ফরম্যাট। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে হচ্ছে পরের দুই বিশ্বকাপ।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ
দল সংখ্যা আগের মতোই ১৪টি থাকছে, তবে খেলার ধাপে বড় পরিবর্তন এনে ৩টি রাউন্ড করা হয়েছে:
প্রথম রাউন্ড (সুপার সিরিজ): টুর্নামেন্টের র্যাঙ্কিং বা বাছাইয়ের নিচের দিকের ৩ দল (১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দল) নিজেদের মধ্যে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলবে। এখান থেকে শুধু শীর্ষ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। বাকি ২ দল বিদায় নেবে।
দ্বিতীয় রাউন্ড (গ্রুপ পর্ব): সরাসরি খেলা ১১ দল এবং প্রথম রাউন্ড থেকে আসা ১ দল—মোট ১২ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রত্যেক গ্রুপে থাকছে ছয়টি করে দল। দুই গ্রুপের শীর্ষে থাকা প্রথম তিন দল মিলিয়ে ছয় দল তো উঠবেই। সঙ্গে থাকছে দুই গ্রুপ মিলিয়ে এরপরের সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া আরও ১ দল—সব মিলিয়ে সাত দল যাবে পরের রাউন্ডে।
তৃতীয় রাউন্ড (সুপার সেভেন): এই ৭ দল নিজেদের মধ্যে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলবে। শীর্ষে থাকা চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ১ম দলের সঙ্গে ৪র্থ এবং ২য় দলের সঙ্গে ৩য় দলের মধ্যে হবে দুই সেমিফাইনাল। এরপরে হবে ফাইনাল।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
এবারও অংশ নিচ্ছে ২০ দল। তবে সুপার এইটের পরিবর্তে হচ্ছে সুপার টেন এবং নতুন এলিমিনেটর ম্যাচ।
গ্রুপ পর্ব: আগে ছিল চার গ্রুপ। প্রত্যেক গ্রুপে ছিল পাঁচটি করে দল। এখন ফরম্যাট বদলে গ্রুপ করা হয়েছে পাঁচটি। প্রত্যেক গ্রুপে থাকছে চারটি করে দল। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল অর্থাৎ ১০ দল যাচ্ছে পরের রাউন্ডে।
সুপার টেন: এই ১০ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রত্যেক গ্রুপে থাকছে পাঁচটি করে দল। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি সেমিফাইনালে চলে যাবে।
বাকি দুই সেমিফাইনাল স্পটের জন্য হবে এলিমিনেটর লড়াই। এক গ্রুপের ২য় স্থানে থাকা দল খেলবে অন্য গ্রুপের ৩য় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে খেলবে। এই দুটি ম্যাচের জয়ী দল দুটি সেমিফাইনালে যাবে।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: যথারীতি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোয়ালিফিকেশন ও নতুন টুর্নামেন্ট
স্কটল্যান্ডের সরাসরি খেলা: ২০২৬ সালের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে স্কটল্যান্ড সরাসরি 'ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনাল'-এ খেলার সুযোগ পাবে।
গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার: ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা যে দলগুলো সরাসরি ২০২৮ বিশ্বকাপের টিকিট পাবে না, তারা সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলবে। রিজিওনাল বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট থেকে আসবে আরও আট দল (আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে ২টি করে; আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক থেকে ১টি করে)।
সহযোগী দেশগুলোর জন্য নতুন টুর্নামেন্ট
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সহযোগী দেশগুলোর খেলার মান বাড়াতে একটি ১৬ দলের গ্লোবাল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের নভেম্বরের সভায় আইসিসির অর্থ কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে পাশ হবে।
সবশেষ আইসিসি ইভেন্ট হয়েছে এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে টানা দুইবার এই সংস্করণের শিরোপা জিতেছে। আর সবশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতকে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১ লাখ দর্শকের সামনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ৯ নম্বরে অবস্থান করছে। এক, দুই ও তিনে থাকা ভারত, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার রেটিং পয়েন্ট ১২১, ১১০ ও ১০২।