ওয়ানডে অধিনায়ক
মেহেদী হাসান মিরাজের স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চোটে পড়ে ছিটকে যাওয়ায় শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে টস করলেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। বাংলাদেশও পেল একদিনের ক্রিকেটে ১৭তম অধিনায়ক।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দিলেন মিরাজ। বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলছে ১৯৮৬ সাল থেকে। গত ৩৮ বছরে ১৭ অধিনায়ক নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে। সংখ্যাটা নেহাত কমও নয়। তবে তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার কম।
লম্বা নির্বাসনকাল থেকে ফিরে ১৯৯১ সাল থেকে প্রোটিয়ারা এখন পর্যন্ত পেয়েছে ১৯ ওয়ানডে অধিনায়ক। এ তালিকায় সবার ওপরে ইংলিশরা। ১৯৭১ সালের সালের ৫ জানুয়ারি, মেলবোর্নে ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে ইংলিশদের নেতৃত্ব দেন রে ইলিংওয়ার্থ। তিনিসহ এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৮ জন।
তবে তাদের চেয়ে ৮ অধিনায়ক কম নিয়ে এ তালিকায় চারে অস্ট্রেলিয়া। গত সপ্তাহে অজিদের বিপক্ষে মেলবোর্নে টস করতে নেমে পাকিস্তানের ৩১তম অধিনায়ক হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পার্থে এই সিরিজের শেষ ওয়ানডে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া পায় ৩০তম অধিনায়ক। এ বছর টেস্ট খেলুড়ে ১২ দলের মধ্যে ৬ দল নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক পেয়েছে ৭ জন। রিজওয়ান ছাড়াও তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার জশ ইংলিস, ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ও লিয়াম লিভিংস্টোন, দক্ষিণ আফ্রিকার রেসি ফন ডার ডুসেন, শ্রীলঙ্কার চারিত আসালাঙ্কা ও বাংলাদেশের মিরাজ।
তাঁদের মধ্যে গত এক দশকে ওয়ানডেতে বেশি নেতৃত্ব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা গেছে শ্রীলঙ্কাকে। ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ১২ জন এ সংস্করণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সমান ১০ জন করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের। ভারত ও পাকিস্তানের সংখ্যাটা ৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের ৮, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের ৭। ৪ জন আয়ারল্যান্ডের। গত এক দশকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সপ্তম এবং এ বছরও সপ্তম অধিনায়ক মিরাজ—দেশের ক্রিকেটের জন্যও তিনি ‘লাকি সেভেন’ হয়ে উঠতে পারবেন তো!