সতীর্থরা ব্যস্ত আসা-যাওয়ার মিছিলে। অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে যখন চোখে সর্ষেফুল দেখছিলেন তানজিদ হাসান তামিম-নুরুল হাসান সোহানরা, তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন তাওহীদ হৃদয়। একটা সময় বাংলাদেশের যেখানে দলীয় সেঞ্চুরি হওয়া নিয়েই জেগেছিল শঙ্কা, অধিনায়কের ফিফটিতে টেনেটুনে ১০০ পেরিয়েছে স্বাগতিকেরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। আজ তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নেমেছে ধবলধোলাই এড়াতে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১১০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের ১০৯ রানের মধ্যে হৃদয় একাই করেছেন ৬১ রান।
৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১ রানে পরিণত হয় টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম করেছেন ৫ রান। একটা চার মারলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনের ব্যাটেই এসেছে ১ রান।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের মধ্যে তামিম ও সাইফ এক ওভারে আউট হয়েছেন। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্পেনসার জনসনকে ড্রাইভ করতে যান সাইফ হাসান। কট এন্ড বোল্ড করতে না পারলেও রান আউট করেছেন জনসন। অস্ট্রেলিয়ার পেসারের হাতে লাগা বল নন স্ট্রাইকপ্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দিলে তামিম হয়েছেন রান আউট। একই ওভারের পঞ্চম বলে সাইফকে ফেরান জনসন। আর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ইমনকে ফিরিয়েছেন নাথান এলিস। ইমন ১৩ বলে করেছেন ১ রান।
১১ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও আশা দেখাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান ও তাওহীদ হৃদয়। তবে সোহান আজ একাদশে সুযোগ পেয়ে ৮ বলে কেবল ৬ রান করেছেন। এখান থেকেই নিয়মিত উইকেট হারানোর শুরু বাংলাদেশের। ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭.১ ওভারে ৮ উইকেটে ৮৬ রানে পরিণত হয়।
এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ অব্দি ব্যাটিং করেছেন হৃদয়। চার নম্বরে নেমে ৫১ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৬১ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটা তাঁর সপ্তম ফিফটি। নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ১৭ বলে ২৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েছেন। তাসকিন করেছেন কেবল ২ রান। বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রানে আটকে যায়।
বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৬ রানের জুটিতেও অবদান হৃদয়ের। ষষ্ঠ উইকেটে ২০ বলে ২৬ রানের জুটি গড়েন হৃদয়-রিশাদ হোসেন। ভালো ব্যাটিংয়ের আভাস দিলেও রিশাদ ১৪ বলে করেছেন ১৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার জাম্পা, জনসন, এলিস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। জনসন ৪ ওভারে দিয়েছেন ৬ রান।