রজত পাতিদার আউট কি নট আউট—এই আলোচনা চলছে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্স-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের ফলও হয়ে গেছে। কিন্তু পাতিদারের আউট নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। অধিকাংশ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতেই বেঙ্গালুরু অধিনায়ক নট আউট।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত রাতে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন জেসন হোল্ডার। গুজরাট দল তখন উল্লাসে ব্যস্ত। কারণ, পাতিদারের মতো ক্রিকেটার ভয়ংকর হলে কী করতে পারেন, সেটা তো সবারই জানা। কিন্তু বেঙ্গালুরু অধিনায়ক তখনো ঠায় দাঁড়িয়ে। তৃতীয় আম্পায়ার অভিজিত ভট্টাচার্য যাচাই-বাছাই করে দেখার পর আউট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভীষণ চটেছে বেঙ্গালুরু। কারণ, টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, হোল্ডার বল ধরার পর স্লাইড করতে গিয়ে একাধিকবার বল মাটিতে স্পর্শ করেছেন।
ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) নিয়ম অনুযায়ী পাতিদার আউট হননি। এমসিসির ৩৩.৩ ধারা অনুযায়ী, ‘একটি ক্যাচ তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন ফিল্ডারের বল এবং নিজের শরীরের চলাচলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তার আগে বল মাটিতে স্পর্শ করতে পারবে না।’ হয়তো টিভি আম্পায়ার অভিজিত গতকাল ফুটেজ ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করেননি। অথবা তিনি (অভিজিত) মনে করেছেন, হোল্ডার স্থির অবস্থায় না থাকলেও বলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
টস হেরে গতকাল আগে ব্যাটিংয়ের সময় বেঙ্গালুরুর ইনিংসের অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। আরশাদ খানের শর্ট বল পুল করতে যান পাতিদার। আকাশে ভেসে থাকা বল ধরতে কাগিসো রাবাদা, হোল্ডার দুজনেই ঊর্ধশ্বাসে দৌড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হোল্ডার ক্যাচ ধরেন। টিভি আম্পায়ারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন পাতিদার। আম্পায়ারের সঙ্গে কোহলিরও তর্ক-বিতর্ক চলছিল অনেকক্ষণ ধরে। ইরফান পাঠান, আকাশ চোপড়া, ইয়ান বিশপের দৃষ্টিতেও হোল্ডারের ক্যাচ স্পষ্ট ছিল না।
হোল্ডারের বিতর্কিত ক্যাচের রাতে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে গুজরাট টাইটান্স। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দেওয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে গুজরাট। ম্যাচসেরা হয়েছেন হোল্ডার। ১০ বলে ১২ রানের ইনিংসের পাশাপাশি ২ উইকেট ও তিন ক্যাচ ধরেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। ৯ ম্যাচে ৫ জয় ও ৪ হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে গুজরাট।