কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে দীর্ঘ ১৬ বছরের খরা কাটাল জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ১৬ বছরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে জিম্বাবুয়ে। আগের দুইবারই জেতে লঙ্কানরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয়ের ফলে অপরাজিত থেকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে পা রাখল জিম্বাবুয়ে। ১৭৯ রানের লক্ষ্যে ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল পেরেরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। পেরেরা ২২ রানে বিদায় নিলেও নিসাঙ্কা জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। পাওয়ার প্লে শেষে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬১ রান। মাঝে কুশল মেন্ডিস (১৪) ব্যর্থ হলেও শেষ দিকে পাভান রাথনায়েকের ২৫ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস লঙ্কানদের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভানস ও গ্রায়েম ক্রেমার প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উড়ন্ত সূচনা করেন। পাওয়ার প্লে-তেই বিনা উইকেটে ৫৫ রান তুলে বড় জয়ের ইঙ্গিত দেয় জিম্বাবুয়ে। মারুমানি ৩৪ ও তিনে নামা রায়ান বার্ল ২৩ রান করে বিদায় নিলেও ম্যাচের হাল ধরেন ওপেনার বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। লঙ্কান বোলারদের তুলোধুনো করে বেনেট হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। অন্যদিকে জয়ের খুব কাছে গিয়ে ২৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন অধিনায়ক রাজা।
শেষ ৩ ওভারে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ১৯ রান। ১৮ তম ওভারে আসে মাত্র ৬ রান। ১৯ তম ওভারে দুশান হেমন্থ জোড়া উইকেট শিকার করে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৮ রানের। মাহিশ থিকশানার করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরেন টনি মুয়োঙ্গা। পরের বলে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন বেনেটকে। তৃতীয় বলেই জয়সূচক রান নিয়ে ১৬ বছর পর লঙ্কানদের হারানোর উৎসবে মাতে জিম্বাবুয়ে। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুশান হেমন্থ ২ উইকেট শিকার করেন।